চলতি বছর ইতালির উপকূলে পৌঁছানো মোট অভিবাসীর সংখ্যা আগের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমলেও জাতীয়তার তালিকায় ২৩ শতাংশের বেশি অংশীদারত্ব নিয়ে সবার ওপরে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।
চলতি বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির বিভিন্ন উপকূলে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে একক দেশ হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছেন বাংলাদেশিরা। দেশটির বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলে পৌঁছানো মোট অভিবাসীর প্রায় এক-চতুর্থাংশই বাংলাদেশের নাগরিক। সম্প্রতি ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministero dell’Interno) অভিবাসন সংক্রান্ত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সার্বিকভাবে দেশটিতে আগের বছরগুলোর তুলনায় নৌপথে অভিবাসী আগমনের মোট সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেলেও বাংলাদেশিদের আগমনের এই উচ্চ অনুপাত নতুন করে নজরে এসেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল আটটা পর্যন্ত দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত অভিবাসীদের হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সমুদ্রপথে মোট ২৬ হাজার ১৯২ জন অনিয়মিত অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। শুধু অক্টোবর মাসের এ সময় পর্যন্ত সমুদ্রের বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে দেশটির উপকূলে নেমেছেন ৩ হাজার ৩০১ জন মানুষ।
পরিসংখ্যানের তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় ইতালির উপকূলে অভিবাসীদের আগমন অর্ধেকেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের একই সময়সীমার মধ্যে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৩ জন অভিবাসী। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের একই সময়ে সমুদ্রপথে প্রবেশের এই সংখ্যাটি ছিল ৫৫ হাজার ৪৮ জন। একইভাবে শুধু অক্টোবর মাসের তুলনামূলক চিত্রেও নিম্নমুখী ধারা স্পষ্ট। চলতি অক্টোবরের এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০১ জন এলেও গত বছরের পুরো অক্টোবর মাসে ৭ হাজার ৯৩৮ জন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৫ হাজার ৭২২ জন অভিবাসী দেশটিতে পা রেখেছিলেন।

উপকূলে অবতরণের সময় অভিবাসীদের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত জাতীয়তার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ইতালিতে আসা প্রায় ২৬ হাজার ২০০ অভিবাসীর মধ্যে ৬ হাজার ৩৯ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। অর্থাৎ মোট অভিবাসীর মধ্যে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া, যেখান থেকে এসেছেন ৩ হাজার ৪২০ জন বা মোট আগমনের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়া শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছে সোমালিয়ার ২ হাজার ৯৯৩ জন (১১ দশমিক ২ শতাংশ), ইরিত্রিয়ার ২ হাজার ৫৪১ জন (৯ দশমিক ৭ শতাংশ), সুদানের ১ হাজার ৯৭২ জন (৭ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং পাকিস্তানের ১ হাজার ৬৬০ জন (৬ দশমিক ৩ শতাংশ) নাগরিক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় উল্লেখিত অন্যান্য জাতীয়তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিবাসী এসেছেন মিশর ও তিউনিসিয়া থেকে। দেশ দুটির নাগরিক সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৫০৪ জন (৫ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ১ হাজার ৩৯২ জন (৫ দশমিক ৩ শতাংশ)। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত অন্যান্য অভিবাসীদের মধ্যে মালির ৪৮৩ জন (১ দশমিক ৮ শতাংশ), ইথিওপিয়ার ৪৬৮ জন (১ দশমিক ৮ শতাংশ), নাইজেরিয়ার ৩৯৩ জন (১ দশমিক ৫ শতাংশ), আইভরি কোস্টের ৩৬১ জন (১ দশমিক ৪ শতাংশ), দক্ষিণ সুদানের ৩৩২ জন (১ দশমিক ৩ শতাংশ), ইরানের ৩২১ জন (১ দশমিক ২ শতাংশ) এবং গিনির ৩০৮ জন (১ দশমিক ২ শতাংশ) নাগরিক রয়েছেন।
সমগ্র পরিসংখ্যানটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে সমুদ্রপথে অনিয়মিত অভিবাসীর ঢল আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ইউরোপের এই দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
চলতি বছরে ইটালিতে সমুদ্রপথে পৌঁছানো ২৬,১৯২ অভিবাসীর মধ্যে ৬,০৩৯ জনই বাংলাদেশি, যা মোট আগমনের ২৩.১ শতাংশ—জাতীয়তার তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ।
infomigrants


