ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: বৈধ অভিবাসন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে নতুন রূপরেখা

4 Min Read

রোমে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উভয় দেশ মানবপাচার রোধ এবং ফ্লো ডিক্রির আওতায় বৈধ পথে জনশক্তি নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে; আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু।

রোম, ইতালি

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় দফার দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভা। ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ‘ফারনেসিনা’তে (Farnesina) আয়োজিত এই বৈঠকে উভয় দেশ অভিবাসন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছে।

২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই সভায় ইতালির পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত রিকার্ডো গুয়ারিগ্লিয়া। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এই মাইলফলক স্পর্শ করার আগে বর্তমান বৈঠকটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বিশেষ জোর

বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল অভিবাসন সংক্রান্ত আলোচনা। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে দুই দেশই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইতালির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ পথ পরিহার করে বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে জনশক্তি রপ্তানি উৎসাহিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ইতালির শ্রম বাজারের চাহিদা মেটাতে ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা ফ্লো ডিক্রির কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৫ সালে অভিবাসন ও গতিশীলতা বিষয়ে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার কাঠামো অনুসরণ করে দক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও সহজতর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করে। এটি ইতালিতে কর্মরত এবং আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তার

শুধুমাত্র অভিবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই দেশের সচিবরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসারে নতুন সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখেছেন। ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক সংলাপের ধরনে সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনও অনেক বড় সুযোগ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতের আধুনিকায়ন এবং সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সংস্কৃতি বিনিময় এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতালির নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যু নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা দীর্ঘক্ষণ মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় দেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক এবং অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে ইতালি তার অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক কেবল শ্রমবাজার কেন্দ্রিক না থেকে একটি বহুমুখী এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আগামী বছরের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে আরও উচ্চপর্যায়ের সফর এবং নতুন বিনিয়োগ চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে উভয় দেশের সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীরা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা (৩০ শব্দের মধ্যে):
ইতালি ও বাংলাদেশ বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে এবং অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনে যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

esteri

Share This Article