দেশীয় পণ্যের সুরক্ষায় পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনকারী ব্রাদার্স অব ইতালির প্রচারণামূলক পোশাক বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ইতালির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’র (Fratelli d’Italia) জাতীয়তাবাদী প্রচারণামূলক টি-শার্ট বাংলাদেশে তৈরি হওয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় অনুসন্ধানী টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘রিপোর্ট’-এর (Report) এক সাংবাদিক স্বয়ং ইতালির ব্যবসা ও ‘মেড ইন ইতালি’ বিষয়ক মন্ত্রী আদোলফো উরসোর (Adolfo Urso) মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। দেশীয় পণ্যের মর্যাদা রক্ষা ও প্রচারের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলটির এমন কর্মকাণ্ড সামনে আসতেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একটি নতুন জুয়েলারি কারখানা (Unoaerre) উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মন্ত্রী আদোলফো উরসো। এ সময় ‘রিপোর্ট’-এর প্রতিবেদক স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার দেশীয় ফ্যাশন ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করতে বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করতে পারছে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই নাটকীয় এক ঘটনার অবতারণা হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক হঠাৎ তাঁর কাছ থেকে ব্রাদার্স অব ইতালি দলের একটি আনুষ্ঠানিক প্রচারণামূলক টি-শার্ট বের করে মন্ত্রীর সামনে মেলে ধরেন। টি-শার্টটিতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল দলের বহুল প্রচারিত স্লোগান ‘আগে ইতালীয়রা’ বা ‘প্রিমা লি ইতালিয়ানি’ (Prima gli italiani)। সাংবাদিক যখন টি-শার্টটি দেখিয়ে জানতে চান মন্ত্রী এটি চিনতে পারছেন কি না, তখন মন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন ‘আগে ইতালীয় পণ্য’। ঠিক তখনই সাংবাদিক পোশাকটির ভেতরের প্রস্তুতকারী ট্যাগটি দেখিয়ে ফাঁস করেন যে, এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে তৈরি।

দলের রাজনৈতিক স্লোগানসংবলিত পোশাক বাংলাদেশে প্রস্তুত হওয়ার তথ্যটি সামনে আসতেই বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন মন্ত্রী উরসো। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, বাজারে কোন পণ্যটি কেনা হবে সেটি সম্পূর্ণভাবে ক্রেতাদের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার ‘মেড ইন ইতালি’কে বিশ্বজুড়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অন্যায্য প্রতিযোগিতা প্রতিরোধে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে সাংবাদিক আরও কঠোর প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, দেশীয় ব্র্যান্ড সুরক্ষার নামে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা দলটি বাস্তবে বিদেশে কাজ আউটসোর্স করছে এবং সস্তা শ্রমের সুযোগ নিয়ে নিজেদের ফান্ড ও মুনাফা বাড়াচ্ছে। সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের মুখে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে একপর্যায়ে মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই পুরো সাক্ষাৎকার পর্বটি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল শুরু থেকেই স্থানীয় শিল্পের প্রাধান্য এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতি প্রচার করে আসছে। সেখানে খোদ সরকারদলীয় প্রচারণামূলক সামগ্রী বাংলাদেশ থেকে তৈরি করে আনার বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ায় সরকারের নীতি ও বাস্তব অবস্থানের বৈপরীত্য নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
‘ফ্রাতেল্লি দ’ইতালিয়া’র বাংলাদেশে তৈরি টি-শার্ট নিয়ে মন্ত্রী উরসোকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিক। মন্ত্রী ভোক্তার পছন্দের কথা বললেও সাংবাদিক দলীয় নীতি ও বিদেশি শ্রমিক শোষণের প্রসঙ্গ তোলেন।
corrierediarezzo


