উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে নিয়ম ভেঙে স্বজনদের ভিডিওকলে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র লড়াই ও ইসরায়েল ধ্বংসের বার্তা দিলেন হামাস-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক ইমাম; এমন ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে বামপন্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতিবিদ সিলভিয়া সারদোনে।
ইতালির রাজনীতি ও নিরাপত্তা মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে কারাগারের ভেতর থেকে এক বন্দি ইমামের উসকানিমূলক ভিডিওকল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সার্দিনিয়ার সাসারিতে অবস্থিত উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাংকালি কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমাম রিয়াদ আল-বুস। সম্প্রতি কারাগারের কড়া অভ্যন্তরীণ নিয়ম লঙ্ঘন করে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর করা একটি ভিডিওকলের ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওটি নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইতালির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সিলভিয়া সারদোনে।
ভিডিওটি জনসমক্ষে এনে সিলভিয়া সারদোনে দেশটির বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অধিকারকর্মীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারের কুঠুরিতে বসে সশস্ত্র সংঘাত ও কথিত ‘পবিত্র যুদ্ধ’ উসকে দিতে বন্দি ইমাম ভিডিওকলের মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছেন, অথচ চরম উদ্বেগের বিষয় হলো ইতালির বামপন্থীদের একাংশ এখনও এমন ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আন্দোলন করছে। সারদোনের মতে, উগ্র সন্ত্রাসী মতাদর্শের সঙ্গে জড়িত এক বন্দির পক্ষে রাজনৈতিকভাবে মাঠে নামা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক ঝুঁকি।

মামলার বিবরণ ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ আল-বুস এবং মোহাম্মদ হানুনকে ইতালিতে হামাসের গোপন নীতি-নির্ধারণী শাখা বা শীর্ষ কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অতীতে রকেট লঞ্চার হাতে হামাস যোদ্ধাদের সাথে আল-বুসের অস্ত্রধারী ছবি রয়েছে। ইতালির বিশেষ নিরাপত্তা বিধিমালার আওতায় তাঁকে সাসারির বাংকালি কারাগারে রাখা হয়েছে। এই কারাগারটি সাধারণ কোনো সংশোধনাগার নয়; এটি ইতালির কুখ্যাত মাফিয়া অপরাধী ও চরমপন্থীদের জন্য নির্ধারিত কঠোর ‘৪১-বিস’ (41-bis) ব্লক এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার (Alta Sicurezza) অন্তর্ভুক্ত। এমন কঠোর নজরদারির স্থান থেকে তাঁর ধারণকৃত ভিডিও বাইরে ছড়িয়ে পড়া কারা প্রশাসনের নজরদারি ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, স্বজনদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের সুযোগ নিয়ে আরবি ভাষায় আল-বুস একটি দীর্ঘ ধর্মীয় ভাষণ বা খুতবা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা এই ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দেয়। ওই ভাষণে তিনি সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে প্রার্থনা করেন, “হে আল্লাহ, গাজা ও ফিলিস্তিনে তোমার যোদ্ধাদের বিজয় দান করো, তাদের লক্ষ্য নিখুঁত রাখো, আহতদের সুস্থ করো এবং বন্দিদের মুক্ত করো।” এর পাশাপাশি তিনি ইসরায়েলের বিনাশ কামনা করে তাদের সমাজে ভীতি, আতঙ্ক ও চরম দুর্দশা ছড়িয়ে পড়া এবং তাদের সম্পদ ধ্বংসের দোয়া করেন।
ইতালীয় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ভিডিওতে ব্যবহৃত শব্দচয়ন ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি স্পষ্টতই ওই চরমপন্থী সংগঠনের আদর্শিক প্রচারণার অংশ। সিলভিয়া সারদোনের এই ভিডিও ফাঁসের পর পুরো ঘটনাটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন স্পর্শকাতর কারাগারে মোবাইল বা ভিডিওকলের অপব্যবহার ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, অন্যদিকে চরমপন্থার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারীদের আইনি ও নৈতিক অবস্থানকেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সিলভিয়া সারদোনে অনলাইনে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেছেন, কারাগার থেকে ইমামের ভিডিওবার্তায় সহিংসতার আহ্বান এসেছে; একইসঙ্গে তাঁর মুক্তির দাবিতে বামপন্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ilgiornale.it


