ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাখ্যাত অভিবাসীদের কেন্দ্র গড়তে আলবেনিয়ার অস্বীকৃতি: রোম ছাড়া অন্যদের সঙ্গে চুক্তিতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী এডি রামা

4 Min Read


ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাখ্যাত অভিবাসীদের কেন্দ্র গড়তে আলবেনিয়ার অস্বীকৃতি: রোম ছাড়া অন্যদের সঙ্গে চুক্তিতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী এডি রামা

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ ভূখণ্ডে রাখতে কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা ‘রিটার্ন হাব’ নির্মাণের সুযোগ দেবে না আলবেনিয়া। সম্প্রতি এমন স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডি রামা। পূর্বে ইতালির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরিতে সম্মতি দেওয়া হলেও নতুন করে অন্য কোনো দেশের জন্য একই ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। জার্মানির প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ভেল্ট আম সনটাগ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আলবেনীয় সরকারপ্রধানের এই কঠোর বার্তা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ইতালির সরকারের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তিতে পৌঁছেছিল আলবেনিয়া। ওই সমঝোতার অধীনে অনিয়মিত পথে ইতালিতে পৌঁছানো আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আলবেনিয়ার ভূখণ্ডে দুটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো কার্যত অনেকটাই ফাঁকা ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই নজির দেখে ইউরোপের অন্যান্য দেশও একই ধরনের কেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ দেখালেও আলবেনিয়া সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, ইতালির সঙ্গে তাদের চুক্তিটি একেবারেই স্বতন্ত্র। প্রধানমন্ত্রী রামার ভাষায়, ইতালি তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ‘ইউরোপীয় অংশীদার’ হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় ওই চুক্তি করা হয়েছিল।

অন্য দেশগুলোর প্রস্তাব নাকচ করার কারণ হিসেবে রামা স্পষ্টভাবে বলেন, কেবল ইউরোপের বাইরের কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রে এমন শিবির তৈরি করা অভিবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। তাই অন্য কাউকে এই সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এর পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণও দেখছেন বিশ্লেষকরা। আলবেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটভুক্ত হওয়ার পর দেশটি আর আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তথাকথিত ‘তৃতীয় রাষ্ট্র’ থাকবে না। এমন বাস্তবতায় নতুন কোনো বিতর্কিত চুক্তিতে জড়াতে নারাজ তিরানা।

এদিকে গত সপ্তাহে লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ‘ইইউ রিটার্ন রেগুলেশন’ বা অভিবাসী প্রত্যাবাসন নীতিমালার একটি আইনি রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্পেন ছাড়া জোটের বাকি সব সদস্য রাষ্ট্রই নীতিগতভাবে এই কাঠামোতে সমর্থন দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের দেশগুলো নিজ দেশে আশ্রয় বাতিল হওয়া ব্যক্তি এবং গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অথচ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না—এমন অভিবাসীদের যেকোনো তৃতীয় দেশে সাময়িকভাবে রাখার আইনি সুযোগ পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস—এই পাঁচটি দেশ বর্তমানে যৌথভাবে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে গ্রিস জোটের উদ্যোগের পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলাদা কেন্দ্র খোলার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

আলবেনিয়া নিজেদের এই প্রক্রিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে। কেন্দ্রগুলো স্থাপনের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে রুয়ান্ডা ও উগান্ডার নাম আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে আগ্রহ বেশি, কারণ এর আগে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তি বাতিল হলেও সেখানে অভিবাসীদের জন্য গড়ে তোলা বড় ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো এখনো প্রস্তুত রয়েছে। ইউরোপের নীতিনির্ধারকেরা এখন সেই অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রত্যাবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছেন।



ইইউর নতুন নীতিতে তৃতীয় দেশে অভিবাসী ফেরতকেন্দ্র স্থাপনের পথ খুলেছে; আলবেনিয়া ইতালির বাইরে অন্য দেশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, আর সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে রুয়ান্ডা ও উগান্ডা।

infomigrants

Share This Article