স্কুল ডিক্রি অনুযায়ী অভিবাসী অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা কোর্স বাধ্যতামূলক করেছে মেলোনি সরকার; তবে স্থান ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের সরকারি শিক্ষাকেন্দ্রগুলো।
ইতালিতে স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যেসব বিদেশি অভিভাবক স্থানীয় ভাষা জানেন না, তাদের জন্য বিনামূল্যে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারার প্রস্তাবিত নতুন স্কুল ডিক্রি (Decreto Scuola)-এর আওতায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত প্রাদেশিক সরকারি শিক্ষাকেন্দ্র ‘সিপিআইএ’ (Centri Provinciali per l’Istruzione degli Adulti – CPIA)-এর মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট এবং স্থায়ী শিক্ষকের অপ্রতুলতার কারণে সরকারের এই প্রশংসনীয় কিন্তু কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম প্রাতিষ্ঠানিক বৈপরীত্য ও অচলাবস্থা।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর রেজ্জো এমিলিয়ার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে বাস্তব প্রতিবন্ধকতা কতটা গভীর। শহরটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সিপিআইএ-এর প্রায় ৩০টি শাখা পরিচালিত হচ্ছে, যার প্রধান কার্যালয় ভিয়া ভের্দি (Via Verdi) এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে বিশ্বের ৮০টি দেশের প্রায় ২ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী ভাষা ও অন্যান্য প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছেন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ বছরের বেশি বয়সী অর্ধশতাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীও রয়েছে।
নতুন এই সরকারি নির্দেশনা কার্যকরের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে আসন সংকট চরমে পৌঁছেছে। রেজ্জো এমিলিয়ার সিপিআইএ শাখার পরিচালক লুচিয়ানো ক্যাসেলি জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক ভাষা শেখার আবেদন করে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকায় আটকে আছেন। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও শিক্ষকের অভাবে এই ৮০০ জন মানুষকে এখনো কোনো ক্লাসরুমে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আইনের আওতায় আরও শত শত বিদেশি অভিভাবককে এই কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হলে পুরো ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে।

পরিচালক ক্যাসেলি উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, “নতুন এই আইনের অধীনে কতজন অভিভাবককে ভাষা শেখার জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু যারা আসবেন, তারা ইতিমধ্যে অপেক্ষমাণ থাকা ওই ৮০০ জনের সঙ্গেই যুক্ত হবেন। স্থান ও জনবলের সংকটের কারণে যাদের আমরা বর্তমানে কোনো সমাধানই দিতে পারছি না।” শিক্ষক সংকটের কারণ তুলে ধরে তিনি জানান, ইতালির সমগ্র সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সিপিআইএ একমাত্র ব্যতিক্রম প্রতিষ্ঠান, যার শিক্ষক পদের সংখ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো হয় না। বরং বহু বছর আগেই প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি নির্দিষ্ট শিক্ষক কোটা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল, যা আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য সরকারের এই নতুন নিয়ম বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তানদের স্কুলের প্রয়োজনে অভিভাবকরা ভাষা শিখতে আগ্রহী হলেও সরকারি কেন্দ্রে নাম লিখিয়ে মাসের পর মাস অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হচ্ছে তাদের। অথচ আইনগতভাবে এই কোর্স সম্পন্ন করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যাসেলির মতে, পর্যাপ্ত রসদ ও বরাদ্দ ছাড়া কোনো আইন চাপিয়ে দিলে তার বাস্তবায়ন অসম্ভব। তিনি রূপক অর্থে মন্তব্য করেন, যেকোনো নিয়মের কার্যকর হতে গেলে তার নিজস্ব ‘পা’ প্রয়োজন, যার ওপর ভর করে তা চলতে পারে; অন্যথায় তা শুধু কাগজের নিয়মেই সীমাবদ্ধ থাকে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি অভিভাবকদের দ্রুত সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য ভাষা শিক্ষার এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, প্রয়োজনীয় বাজেট, বাড়তি ক্লাসরুম এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা না করলে অভিবাসীদের কার্যকর সামাজিক অন্তর্ভুক্তি আরও বেশি বাধাগ্রস্ত হবে।
ইতালির রেজ্জিও এমিলিয়ায় সিপিআইএ কেন্দ্রে ইতালীয় ভাষা শিখতে ৮০০ জন অপেক্ষমাণ; নতুন সরকারি বাধ্যবাধকতায় শিক্ষার্থীর চাপ বাড়লেও শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়ে গেছে।
reggionline


