অপরাধে জড়িত এবং বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের অবিলম্বে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনসহ নাগরিকত্ব প্রদানের বর্তমান নীতি কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন ইতালির সংসদ সদস্য ডেভিড বেরগামিনি।
ইতালির অভ্যন্তরে অনিয়মিত অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘রি-মাইগ্রেশন’ বা স্থায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ডানপন্থী দল ‘ফিউতুরো নাৎসিওনালে’ (FN)-এর সংসদ সদস্য ডেভিড বেরগামিনি (Davide Bergamini)। দেশটির উমব্রিয়া অঞ্চলের ওর্ভিয়েতো শহরে আয়োজিত দলের এক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
বেরগামিনি বলেন, ইতালিতে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁদের দলের অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। যেসব বিদেশি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন কিংবা যাদের দেশটিতে অবস্থানের কোনো আইনগত বৈধতা নেই, তাদের আর ইতালির মাটিতে থাকতে দেওয়া সমীচীন নয়। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করে দেশত্যাগে বাধ্য করার পক্ষে মত দেন তিনি।
সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে এই আইনপ্রণেতা জরুরি ভিত্তিতে অভিবাসন নীতির কাঠামোগত সংস্কার দাবি করেন। তিনি বলেন, যেসব অভিবাসীর বসবাসের অনুমতি নেই, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করতে বিভিন্ন তৃতীয় দেশের সঙ্গে অবিলম্বে কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি (Accordi bilaterali) সম্পাদন করতে হবে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া সহজে বা নামমাত্র শর্তে বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রদানের চলমান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করারও জোরালো দাবি জানান তিনি।

নিজের দাবির সমর্থনে ইতালির জনসংখ্যার সঙ্গে অপরাধের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বেরগামিনি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইতালির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। অথচ দেশটির বিভিন্ন কারাগারে আটক মোট বন্দীদের ৩৩ শতাংশই অভিবাসী। এই পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইতালিতে বসবাসকারী বহু বিদেশি নাগরিক দেশটির প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধ ও আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছেন, যার কারণে বন্দিশালাগুলোতে অভিবাসীদের অনুপাত অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
ওর্ভিয়েতোয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইতালির ভবিষ্যৎ: সত্যিকারের ইউরোপীয় পরিচয়ের জন্য সামাজিক সার্বভৌমত্ব’। ইতালির জাতীয় রাজনীতিতে যখন অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, সীমান্ত পাহারা এবং নাগরিকত্ব আইনের সংস্কার নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, তখন কট্টর ডানপন্থী শিবির থেকে ‘রি-মাইগ্রেশন’ ও গণ-প্রত্যাবাসনের এই আহ্বান দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধরনের কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত আইনগত রূপ নিলে দেশটিতে বসবাসরত অনিয়মিত বিদেশি নাগরিকদের ওপর প্রশাসনিক নজরদারি ও বহিষ্কারের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
ফুতুরো নাজিওনালের সংসদ সদস্য দাভিদে বেরগামিনি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন নীতির দাবি জানিয়ে বলেন, ইতালির কারাগারে বিদেশিদের সংখ্যা ৩৩ শতাংশ, যেখানে মোট জনসংখ্যায় বিদেশিরা প্রায় ৯ শতাংশ।
stream24.ilsole24ore


