আরেৎসোর ফোরৎসা ইতালিয়ার কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ বলেছেন, শ্রেণিকক্ষ হওয়া উচিত সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তির জায়গা; মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে অভিবাসন ও ইসলাম ইস্যুকে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী হাতিয়ার না বানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নির্দিষ্ট কোটায় বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং আরেৎসোর ডেপুটি মেয়র লুচিয়া তান্তির প্রস্তাবের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ ও আরেৎসো সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ। ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থি জোটের অন্যতম শরিক দল ফোরৎসা ইতালিয়ার (Forza Italia) স্থানীয় এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদ্যালয়কে বিভাজনের নয়, বরং সকল শিশুর পারস্পরিক সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ নির্ধারণের ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে তোসকানার আরেৎসো শহরকে একটি ‘পরীক্ষামূলক পৌরসভা’ (Comune sperimentale) করার প্রস্তাব দেন নগরটির ডেপুটি মেয়র লুচিয়া তান্তি। এর জবাবে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ বলেন, তিনি মেলোনি ও তান্তির অবস্থানকে সম্মান জানালেও এই সিদ্ধান্তের সাথে কোনোভাবেই একমত হতে পারছেন না। কাউন্সিলর রাসেল প্রশ্ন তোলেন, বাস্তবে এই ধরনের কোটা কীভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব? বহু অঞ্চলে এই শতাংশ বজায় রাখতে গেলে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে স্থানান্তর করতে হবে, যার জন্য নতুন শ্রেণিকক্ষ, অতিরিক্ত শিক্ষক এবং বিপুল পরিমাণ প্রশাসনিক সম্পদের প্রয়োজন পড়বে, যা বাস্তবে কোনো সমাধান নয়।

কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে কেবল নাগরিকত্বকেন্দ্রিক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র নাগরিকত্বের কাগজ দেখে কোনো শিশুকে বিবেচনা করা অনুচিত। আরেৎসো শহরে জন্ম নিয়ে বড় হওয়া যে শিশুটি ইতালীয় ভাষায় সম্পূর্ণ সাবলীল এবং স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে উঠেছে, তাকে সদ্য দেশটিতে আসা ভাষার সাথে অপরিচিত কোনো শিক্ষার্থীর সমপর্যায়ে দেখা চরম অযৌক্তিক। কাউন্সিলর রাসেলের মতে, সংকট যদি ভাষাগত দুর্বলতা হয়ে থাকে, তবে শ্রেণিকক্ষে কোটা চাপানোর বদলে ভাষা শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং অর্থবহ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ স্মরণ করিয়ে দেন, মধ্য-ডানপন্থি জোট সরকার প্রায় চার বছর ধরে ইতালির রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে এখন আইনসভার মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে হঠাৎ কেন অভিবাসন ও মুসলিম সম্প্রদায় সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে, তা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তোলেন তিনি। কাউন্সিলর রাসেলের আশঙ্কা, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়গুলোকে মূলত আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সংঘাত ও ভোটের সমীকরণে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন ও ইসলামের মতো বিষয়ে নির্বাচনী ফায়দা না খুঁজে বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ আরও বলেন, সমাজে নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টি সবার জন্যই প্রযোজ্য এবং তা ইতালি ও বিদেশি—উভয়কেই মেনে চলতে হবে। তবে শিক্ষানীতি নিয়ে কৃত্রিম বিতর্কের আড়ালে সাধারণ নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনের বড় সংকটগুলোকে ঢেকে ফেলা যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা (Sanità), কর্মসংস্থান, পর্যাপ্ত মজুরি, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং তরুণদের ভবিষ্যতের মতো মৌলিক বিষয়গুলো আজ অবহেলিত। বিভাজন তৈরির বদলে ঐক্যের রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে কাউন্সিলর রাসেল আহমেদ স্পষ্ট করেন, তিনি বর্জনের নয়, বরং সবসময় মানুষের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির পক্ষে কথা বলবেন।
ইতালিতে অভিবাসী শিক্ষার্থীদের সীমা নির্ধারণের বিতর্কে বক্তার অবস্থান: নাগরিকত্ব নয়, ভাষাগত সহায়তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করেই একীভূতকরণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
corrierediarezzo


