আদালতের দেওয়া গৃহবন্দিত্বের নিয়ম বারবার অমান্য করা এবং একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাচ ভেঙে চুরির অভিযোগে ইতালির কিয়েতিতে এক বাংলাদেশি তরুণকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিচারিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর আদেশ জারি করে।
ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলের কিয়েতি (Chieti) শহরে আদালতের শর্ত অমান্য করে বারবার গৃহবন্দিত্ব থেকে পালানো এবং একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্বের আইনি সুবিধা বাতিল করে স্থানীয় আদালতের নির্দেশে ওই তরুণকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাংলাদেশি তরুণ পূর্বে একটি মামলায় বিচারিক নজরদারির আওতায় গৃহবন্দী (arresti domiciliari) ছিলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি বারবার সেই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে বাসস্থান থেকে বাইরে বের হয়ে আসছিলেন। এর মধ্যেই গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় কিয়েতি শহরের মূল সড়ক ‘করসো দি কিয়েতি’ (Corso di Chieti)-তে অবস্থিত একটি সুপরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একটি বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে দোকানের কাচ বা শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে মালামাল লুটের বিশেষ পদ্ধতি—যা ইতালিতে ‘স্পাক্কাতা’ (spaccata) নামে পরিচিত—ব্যবহার করে চুরির (furto aggravato) ঘটনা ঘটানো হয়। পুলিশি অনুসন্ধানে এই অপরাধের সঙ্গে ওই বাংলাদেশি তরুণের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

পরপর একাধিকবার আইন অমান্য ও নতুন অপরাধের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় স্থানীয় প্রশাসন। কিয়েতির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের (Procura della Repubblica di Chieti) দিকনির্দেশনায় স্থানীয় পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা স্কুয়াদ্রা মোবিল (Squadra Mobile della Questura di Chieti) ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করে। সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কিয়েতি আদালতের প্রাথমিক তদন্তকারী বিচারক বা জিআইপি (G.I.P. – Giudice per le Indagini Preliminari) অভিযুক্তের গৃহবন্দিত্বের আদেশ বাতিল করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর (custodia cautelare in carcere) নির্দেশ দেন।
বিচারকের পরোয়ানা জারির পর গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্কুয়াদ্রা মোবিলের তদন্তকারী দল অভিযান চালিয়ে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে স্থানীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি বর্তমানে প্রাথমিক তদন্তের (indagini preliminari) পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযুক্ত তরুণ বিচারিক কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছেন। ইতালীয় আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদেশের অধীনে থাকাবস্থায় গুরুতর অপরাধে জড়ালে জামিন বা গৃহবন্দিত্বের মতো সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল হওয়ার পাশাপাশি কঠোর সাজার বিধান রয়েছে।
বারবার গৃহবন্দিত্বের শর্ত ভঙ্গ ও ‘স্পাক্কাতা’ কায়দায় দোকানে চুরির অভিযোগে চিয়েতির ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
abruzzoinvideo


