নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনের উদাসীনতায় লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন থমকে গেলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর ফুটবলার মিতুল প্রধানকে প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়ে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে সুযোগ করে দিয়েছে ইতালি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় জন্মভূমি বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রবল স্বপ্ন ছিল প্রবাসী কিশোর ফুটবলার মিতুল প্রধানের। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হওয়া এবং বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অবহেলা ও অনীহায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে পারেনি। তবে প্রতিভার মূল্যায়ন থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ অবমূল্যায়ন করলেও এই তরুণ প্রতিভাকে লুফে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। দেশটির অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন নরসিংদীর সন্তান মিতুল প্রধান।
মিতুলের এই ঐতিহাসিক অর্জনে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার শিবপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এলাকায় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে গর্বিত। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিতুলের বাবা রহিম প্রধান দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পরিবার নিয়ে ইতালির ভেনিস শহরে বসবাস করছেন এবং সেখানে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বাবার কর্মসূত্রে ভেনিসেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই বিস্ময় কিশোরের।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তীব্র অনুরাগী মিতুল ভেনিসের স্থানীয় ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলা শুরু করেন। মাঠে অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, নজরকাড়া ড্রিবলিং ও কৌশলগত দক্ষতার কারণে দ্রুতই স্থানীয় ইতালিয়ান ফুটবল সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন তিনি। সেখানে নিজের দক্ষতার জানান দিয়ে বয়সভিত্তিক ক্লাব ফুটবলে উজ্জ্বল এক সম্ভাবনা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ইউরোপে মেধার বিকাশ ঘটলেও দেশের প্রতি অকৃত্রিম টানের কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে মিতুলকে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিভাবকরা চেয়েছিলেন ছেলে যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে বাফুফের চিরাচরিত অনীহা ও অনাগ্রহের কারণে মিতুলের পরিবারকে চরম হতাশ হতে হয়। ফেডারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ধারাবাহিক উদাসীনতার মুখে একপর্যায়ে বাংলাদেশের হয়ে খেলার প্রক্রিয়াটি সেখানেই থমকে যায়।
বাফুফের অবহেলায় জন্মভূমির হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হলেও ইউরোপের ফুটবল স্কাউটদের দৃষ্টি এড়াতে পারেননি মিতুল। ইতালির আধুনিক ও দক্ষ স্কাউটিং নেটওয়ার্ক মিতুলের গতি, ড্রিবলিং ও ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে ইতালি অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও স্কাউটরা তাঁকে সরাসরি দলের অংশ হিসেবে নির্বাচন করেন।
দেশের পক্ষ থেকে অবমূল্যায়নের শিকার হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ইতালির বয়সভিত্তিক দলে ডাক পেয়ে মিতুল প্রমাণ করেছেন নিজের যোগ্যতা। লাল-সবুজের রক্ত শরীরে ধারণ করা নরসিংদীর এই কিশোর আজ বিশ্বমঞ্চে ইতালির নীল জার্সি গায়ে নিজের জাত চেনানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।
নরসিংদীর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর মিতুল প্রধান ইতালির অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেয়েছেন; বাংলাদেশের হয়ে খেলার উদ্যোগ সফল না হওয়ায় তাঁর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু ইতালির জার্সিতে।
hello italy


