রোমে অভিবাসীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ গঠন; অংশীদার হলো সাত বাংলাদেশি সংগঠন

4 Min Read

রাজধানী রোম ও আশপাশের মহানগর এলাকার পৌনে সাত লাখ বিদেশি বাসিন্দার স্বাস্থ্য, আবাসন ও কাজের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কার্যকর সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে এই ঐতিহাসিক বহুজাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রিপোর্ট মিনহাজ হোসেন:
ইতালির রাজধানী রোম এবং এর আশপাশের মহানগর এলাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নীতিনির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ’ (Consulta Permanente della Convivenza Interculturale)। সম্প্রতি রোম ক্যাপিটালের মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রথম উন্মুক্ত অধিবেশনের মধ্য দিয়ে পরিষদটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি। রোম প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক বহুজাতিক উদ্যোগে অন্যান্য প্রবাসী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সাতটি বিশিষ্ট বাংলাদেশি সংগঠন অংশীদার হিসেবে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

রোম মহানগর এলাকায় বর্তমানে বসবাসরত প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার বিদেশি নাগরিকের জন্য জনসেবার মানোন্নয়ন ও আইনি অধিকার সম্প্রসারণের একটি স্থায়ী যৌথ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে এই পরিষদ। পুরো প্রক্রিয়ায় রোম সিটি প্রশাসনসহ মোট ৭৫টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৭৪টি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী নাগরিক সংগঠন। এই পরিষদে স্থান পাওয়া নিবন্ধিত ৭টি বাংলাদেশি সংগঠন হলো বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস), ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব রোম, মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার, অ্যাসোচিয়াৎসিয়নে কুলতুরালে ইসলামিকা দেল বাংলাদেশ আল আকসা, উলামা কাউন্সিল অব ইতালি, সঞ্চারী সঙ্গীতায়ন এবং সর্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির। এছাড়া আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে আর্চি রোমা (ARCI Roma), আনোল্ফ (ANOLF) ও স্লো ফুড রোমাসহ পেরু এবং সিয়েরা লিওনের প্রবাসী কমিউনিটিও এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত ৯টি বিশেষজ্ঞ কর্মদলের ধারাবাহিক আলোচনার ভিত্তিতে এই স্থায়ী পরিষদ রূপ লাভ করেছে। পরিষদটির ভবিষ্যৎ কাজের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো বিদেশি নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতাকারী বাড়ানো, আবাসন সংকট নিরসন এবং কর্মসংস্থানে প্রবেশের পথ সহজ করা। একই সঙ্গে অভিবাসীদের প্রশাসনিক নথি নবায়নের জটিলতা হ্রাস, স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিদ্যালয়ে শিশুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করতে বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি বলেন, এই পরিষদ গঠন প্রশাসনের একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি কেবল মানুষের বক্তব্য শোনার কোনো আনুষ্ঠানিক স্থান নয়, বরং জটিল সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে নীতি প্রণয়নের একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। অভিবাসীদের এই মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। অপরদিকে, রোম মহানগর পরিষদের সামাজিক নীতি ও সংস্কৃতিবিষয়ক কাউন্সিলর তিজিয়ানা বিয়োলঘিনি জানান, বৈশ্বিক সংঘাত এবং অভিবাসীদের অধিকার সংকুচিত হওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে রোমকে সত্যিকারের একটি বহুসাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় তিন বছর আগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সরকারি পরিষেবা এবং সামাজিক পরিমণ্ডলে বিদেশি কমিউনিটির পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অধিবেশনে রোম সিটি কাউন্সিলের সভাপতি স্বেতলানা চেল্লি, ইতালির জাতীয় বর্ণবৈষম্যবিরোধী কার্যালয় উনার (UNAR)-এর পরিচালক মাত্তিয়া পেরাদোত্তো এবং ইকুয়েডর ও সিয়েরা লিওনের কনসালসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রোমে ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ গঠন, যেখানে ৭টি বাংলাদেশি সংগঠনও যুক্ত হয়েছে।

helloitaly

Share This Article