২০২৫ সালে ইতালিতে অভিবাসী সহায়তামূলক কার্যক্রমে দশ লক্ষাধিক মানুষ সেবা পেয়েছেন; এর মধ্যে পাচার, সহিংসতা ও চরম শোষণের শিকার হয়ে বিশেষ পুনর্বাসন সুবিধা গ্রহণকারীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।
ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MLPS) দেশটিতে অভিবাসীদের কল্যাণে নিয়োজিত নিবন্ধিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৫ সালের বার্ষিক কার্যক্রমের ওপর একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশটির অভিবাসন সংক্রান্ত সমন্বিত আইন (Testo Unico dell’Immigrazione – Dlgs 286/1998)-এর ৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী পরিচালিত সরকারি রেজিস্টারের আওতায় এসব সংস্থার কাজের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। অভিবাসন নীতি এবং সামাজিক ও কর্মসংস্থানমূলক অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত সাধারণ পরিচালনা পর্ষদ এই রেজিস্টারটি তদারকি করে থাকে।
সরকারি এই রেজিস্টারটি মূলত দুটি ভিন্ন শাখায় বিভক্ত। প্রথম বিভাগটি কাজ করে অভিবাসীদের সাধারণ সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে, আর দ্বিতীয় বিভাগটির কাজ মানবপাচার, সহিংসতা কিংবা গুরুতর শ্রমশোষণের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন করা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথম বিভাগে সক্রিয় ছিল ৮২২টি সংস্থা, যা আগের বছরের ৮৩৪টির তুলনায় সামান্য কম। তবে সংস্থা কমলেও এ বিভাগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৭৬৬টিতে। অন্যদিকে, পাচার ও শোষণবিরোধী দ্বিতীয় বিভাগে সক্রিয় সংস্থার সংখ্যা বেড়ে ১৮০টিতে এবং বাস্তবায়িত প্রকল্প ৪৪৪টিতে উন্নীত হয়েছে। উভয় বিভাগের কার্যক্রমেই ইতালির উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলোর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে সুবিধাভোগীদের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম বিভাগের সাধারণ অন্তর্ভুক্তি প্রকল্পগুলো থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সেবা গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে মরোক্কান নাগরিকদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে দ্বিতীয় বিভাগের আওতায় পাচার, সহিংসতা ও চরম শোষণের শিকার হয়ে আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা গ্রহণকারী প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। এই বিশেষ শাখায় সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের ৮০ দশমিক ৪ শতাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিক। এছাড়া তাদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষ এবং ৭ দশমিক ৩ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
সহায়তার ক্ষেত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ অভিবাসীদের জন্য মূলত সামাজিক সহায়তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সহায়তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে পাচার ও শোষণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তাই ছিল প্রধান বিষয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিবাসী সেবায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর প্রায় অর্ধেকেরই মূল আইনি রূপ হলো ‘সামাজিক সমবায়’ (cooperativa sociale)। সংস্থাগুলোর বড় অংশই বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করে থাকে। এসব প্রকল্পের ব্যয়নির্বাহে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারি তহবিল। সাধারণ প্রকল্পের ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইতালির জাতীয় তহবিল থেকে। আর শোষণবিরোধী কার্যক্রমের ৮৪ শতাংশ অর্থায়ন করেছে দেশটির জাতীয় সরকারি তহবিল। এছাড়া এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার বেতনভোগী কর্মী কাজ করেছেন, যাদের সিংহভাগই ছিলেন ইতালীয় নারী নাগরিক। তাদের পাশাপাশি বহু বিশেষজ্ঞ ও স্বেচ্ছাসেবীও এসব মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
২০২৫ সালে ইতালিতে অভিবাসী সহায়তা প্রকল্পে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছেন; দ্বিতীয় সেকশনে মানবপাচার ও শোষণের শিকার প্রায় ৪৫ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে বাংলাদেশিরাই সর্বাধিক অবস্থানে ছিলেন জাতীয়তার দিক থেকে।
integrazionemigranti.gov


