গ্রিসের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে পালানো সাত বাংলাদেশি ফের আটক, নিরাপত্তা সংকটে শিবির বন্ধের দাবি

3 Min Read

উত্তরাঞ্চলীয় সেরেসের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে ১০ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী পালিয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক পুলিশ; তবে কেন্দ্রটিতে চলমান অস্থিরতা ও দুর্বল নিরাপত্তার কারণে এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ সংগঠন।

 গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র (ডিটেনশন সেন্টার) থেকে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকাংশকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সীমান্তবর্তী একটি কেন্দ্র থেকে ১০ জন বাংলাদেশি পালিয়ে যাওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পরদিন সোমবার গ্রিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পলাতকদের মধ্যে সাতজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ থাকা বাকি তিনজনকে খুঁজে বের করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় সেরেস অঞ্চলের ক্লেইদি গ্রামের কাছে সিনতিকি এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় সাময়িকভাবে রাখার জন্য কেন্দ্রটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, পালিয়ে যাওয়া ১০ জনই বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের সবার বয়স ২১ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। রোববার বিকেলে সুযোগ বুঝে তারা ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে কেন্দ্রটিতে তাদের অনুপস্থিতি ধরা পড়লে পুলিশ আশপাশের বনাঞ্চল, গ্রামীণ সড়ক এবং সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে সাতজনকে আটক করে।

কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঘটনার দিন পর্যন্ত সিনতিকির ওই আশ্রয়কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ১২৫ জন অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই কেন্দ্রটির সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সেখানে আশ্রিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিবাসনসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যাম্পটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং অভিবাসীদের মধ্যে পুঞ্জীভূত অসন্তোষের ধারাবাহিকতাতেই এই পালানোর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ঘটনাটির পর কেন্দ্রটির সার্বিক নিরাপত্তা ও পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি (ERT)-কে দেওয়া এক বক্তব্যে সেরেস পুলিশ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইয়ানিস কুনিওস জানান, ক্যাম্পটির ভঙ্গুর অবকাঠামো ও অপর্যাপ্ত নজরদারির কারণে সেখানে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের জন্য কাজের পরিবেশ অত্যন্ত অনিরাপদ হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রটির বিভিন্ন সংকট ও নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে না দেখে এটি অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। বর্তমানে পলাতক বাকি তিন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারে তল্লাশি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


গ্রিসের সেরেস অঞ্চলের ডিটেনশন সেন্টার থেকে পালানো ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; বাকি তিনজন এখনো পলাতক।

infomigrants

Share This Article