লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারানো সাত অভিবাসীর মরদেহ ইতালির বারি শহরের একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে সমুদ্রে প্রাণ হারানো সাতজন অভিবাসীর মরদেহ ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বারির একটি ইসলামিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই মিসর ও সোমালিয়ার নাগরিক ছিলেন। উদ্ধার তৎপরতা ও পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের এই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
দাফন কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয় বারির পালেসে (Palese) এলাকার ইসলামিক কবরস্থানে। মরুভূমির বালুর রঙের মতো দেখতে সাতটি কফিনের ওপর শোকচিহ্ন সংবলিত সাদা কাগজ লাগানো ছিল। সমাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে রিজভানি ফাতমিরে (Rizvani Fatmire) নামের এক অভিবাসীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার নাম কফিনের গায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। তিনি গত আগস্ট মাসে সাগরে প্রাণ হারানো হতভাগ্যদের একজন। দাফন শেষে নিহতদের জন্য বিশেষ মোনাজাত ও জানাজার আয়োজন করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা গত ১৬ আগস্ট অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। চরম বৈরী ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে সাগরে ভাসতে থাকা ওই নৌকার যাত্রীরা একপর্যায়ে তীব্র মানবিক সংকটে পড়েন। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি’র (Emergency) পরিচালিত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘লাইফ সাপোর্ট’ (Life Support) সাগরে অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি এই সাত অভিবাসীর নিথর দেহ উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।

দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে ‘ইসলামিক কমিউনিটি অব ইতালি’ বা সিদি (Cidi – Comunità Islamica d’Italia)-র প্রতিনিধি এবং ইসলামিক সমাধি সেবাবিষয়ক কর্মকর্তা আলী আলেসান্দ্রো পালিয়ারা (Ali Alessandro Pagliara) জানান, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে তাদের এই শেষবিদায় জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী একটি মর্যাদাপূর্ণ দাফনের ব্যবস্থা করা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব ছিল। যেসব মানুষ কোনো নিরাপদ ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি এবং সাগরে করুণ পরিণতির শিকার হয়েছেন, তাদের সম্মানজনক সমাধি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পালিয়ারা আরও জানান, ইতালিতে মুসলিম রীতিতে দাফন সম্পন্ন করার দায়িত্ব তাদের সংগঠন নিয়মিতভাবে পালন করে আসছে। এই মানবিক উদ্যোগে মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য তিনি ইতালীয় রেড ক্রস (Croce Rossa Italiana)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বারি পৌর প্রশাসনকে (Comune di Bari) ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বারির স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন প্রধান ইসলামিক কবরস্থানটি (Monumentale) সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পৌরসভা পালেসে কবরস্থানে নতুন জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এই সহযোগিতার কারণেই সাগরে প্রাণ হারানো এসব মানুষকে যথাযথ মর্যাদায় সমাহিত করা সম্ভব হয়েছে।
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত সাত অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে বারিতে আনা হয়। পরে পালেসের ইসলামিক কবরস্থানে তাদের মর্যাদাপূর্ণ দাফন সম্পন্ন হয়।
ansa


