উত্তর ইউরোপ থেকে পারমিট নবায়নের আশায় এসে মাসের পর মাস রাস্তায় রাত কাটানো ১৫৭ আশ্রয়প্রার্থীকে বিভিন্ন অভ্যর্থনা কেন্দ্রে সরিয়েছে প্রশাসন; দ্রুত কাজ হওয়ার তথ্যকে সামাজিক মাধ্যমের গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেফেক্ট।
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কালাব্রিয়ার ক্রোতোনে (Crotone) শহরে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা ১৫৭ জন অভিবাসীকে অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অভ্যর্থনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন। শহরের পিয়াজ্জালে নেত্তুনোয় অবস্থিত সাবেক পাইকারি বাজারের (ex mercato generale) পরিত্যক্ত ছাউনির নিচে তাঁবু খাটিয়ে বাস করছিলেন এই অভিবাসীরা। স্থানীয় পুলিশ ও অভিবাসন দপ্তর প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের এই অভিযান পরিচালনা করে।
প্রশাসনের নেওয়া সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ জনকে আব্রুৎসো অঞ্চলের এল’আকুইলা (L’Aquila) শহরের সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি ১০৭ জনকে কালাব্রিয়া প্রদেশেরই বিভিন্ন অনুমোদিত আশ্রয়কেন্দ্রে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভিবো ভ্যালেন্তিয়া (Vibo Valentia), কোজেনজা (Cosenza), কাতানজারো (Catanzaro) এবং রেজ্জো কালাব্রিয়া (Reggio Calabria) শহরের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে তাঁদের বসবাসের বন্দোবস্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানান্তরিত অভিবাসীদের সবাই মূলত বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা ‘পেরমেস্সো দি সোজ্জোর্নো’ (Permesso di soggiorno) প্রাপ্ত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। তাঁদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ চার বছর ধরে উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসরত ছিলেন। তবে ইতালির ইস্যুকৃত নথিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা পুনরায় নবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে তাঁরা আবার কালাব্রিয়া অঞ্চলে ফিরে আসেন। নিজস্ব কোনো বাসস্থান বা কাজের সংস্থান না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে তাঁরা বাধ্য হয়ে শহরের উন্মুক্ত ছাউনির নিচে মানবেতরভাবে অবস্থান করছিলেন।

অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার আশ্বাসে ক্রোতোনেতে অভিবাসীদের অতিরিক্ত ভিড় জমার বিষয়টিতে কড়া বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় প্রেফেক্ট ফ্রাঙ্কা ফেররারো (Franca Ferraro)। তিনি স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়ে জানান, ক্রোতোনেতে নথিপত্র বা পারমিট নবায়নের কাজ অন্য শহরের তুলনায় দ্রুত হয়—এমন ধারণা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা প্রচার ও মুখের কথার (passaparola) ওপর ভিত্তি করেই বহু অভিবাসী ভুল তথ্যের শিকার হয়ে এখানে জড়ো হচ্ছেন বলে তিনি সতর্ক করেন। প্রেফেক্ট জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশাসনিক নিয়মকানুন পুরো ইতালিতেই অভিন্ন এবং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাড়তি কোনো বিশেষ সুবিধা নেই।
সম্প্রতি শহরের রাস্তায় পুলিশের ওপর এক নাইজেরীয় নাগরিকের হামলার ঘটনার পর জনমনে যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই উচ্ছেদ ও স্থানান্তরের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও নিশ্চিত করেছে প্রেফেক্তুরা। প্রেফেক্ট জানান, অভিবাসীদের বিভিন্ন উপযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্রে পুনর্বাসনের এই সিদ্ধান্তটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং ইতালি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Ministero dell’Interno) সঙ্গে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা ও কার্যকর সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত স্থানে রাত কাটানো এই আশ্রয়প্রার্থীদের পুনর্বাসন স্থানীয় নাগরিক জীবনের অচলাবস্থা দূর করেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা থেকে অভিবাসীদের জন্য বড় বার্তা হলো, দালাল চক্র বা সামাজিক মাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে আইন ও প্রশাসনিক নিয়মের সঠিক তথ্য জেনে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ক্রোটোনে মাসের পর মাস রাস্তায় থাকা ১৫৭ অভিবাসনপ্রার্থীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৫০ জন ল’আকুইলায়, বাকিদের ক্যালাব্রিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
rainews
flixier-subtitles.txt


