ভাসমান গ্যাস প্ল্যাটফর্ম ও ডুবন্ত ডিঙ্গি থেকে ২৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে সি-ওয়াচ; ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কার্যকর তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম চালুর আহ্বান উদ্ধারকারী সংস্থার।
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশুসহ অন্তত দুই জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ওই নৌকার ২৮ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করেছে বেসরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’ (Sea-Watch)। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে সংস্থাটির উদ্ধারকারী জাহাজ ‘অরোরা’ এ তৎপরতা চালায়। তবে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ইতালি কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে তাদের নিকটবর্তী লাম্পেদুসা বন্দরে ভেড়ার অনুমতি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিবাসীদের জরুরি সহায়তা সংক্রান্ত হটলাইন ‘অ্যালার্ম ফোন’ (Alarm Phone)-এর মাধ্যমে নৌকাটির বিপদের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় অরোরার উদ্ধারকারী দল। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাতাস বেরিয়ে প্রায় চুপসে যাওয়া একটি রাবার ডিঙ্গিতে পাঁচজন যাত্রী কোনোমতে ভেসে আছেন। সেই স্থান থেকেই এক শিশুর মরদেহসহ দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অন্য ২৩ জন বেঁচে যাওয়া অভিবাসী সাঁতরে পাশের ‘হাসদ্রুবাল’ (Hasdrubal) গ্যাস প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তিউনিসিয়ার সমুদ্র উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে এক শিশুসহ বাকিদের জাহাজে তুলে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নাম, বয়স ও জাতীয়তা শনাক্তের কাজ চলছে। এদিকে নিখোঁজ ছয়জনের মধ্যে একটি পরিবারেরই তিনটি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সি-ওয়াচের মুখপাত্র জুলিয়া মেসমেয়ার বলেন, অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের সুরক্ষার আশায় যাত্রা করেছিলেন, কিন্তু পরিণতিতে প্রাণ হারাতে হলো। তিনি অভিযোগ করেন, অভিবাসন নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর নির্মম নীতির কারণেই এমন ট্র্যাজেডি বারবার ঘটছে। সমুদ্রে এমন পরিকল্পিত মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে অবিলম্বে সমন্বিত ইউরোপীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মসূচি চালু করারও জোর দাবি জানান তিনি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতালি সরকার শেষ পর্যন্ত লাম্পেদুসা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিলেও দেশটিতে বেসরকারি উদ্ধারকারী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রায়শই উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের বন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতালি সরকারের দাবি, মানবপাচারকারীরা এসব বেসরকারি উদ্ধারকারী জাহাজকে তাদের অপরাধের সহায়তাকারী বা ‘ট্যাক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাছাড়া দেশটির বিদ্যমান আইনে বন্দর নির্ধারিত হওয়ার পর পথে আর কোনো বিপদগ্রস্ত অভিবাসীকে উদ্ধার না করে সরাসরি নির্দিষ্ট বন্দরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের দোহাই দিয়ে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো একাধিক উদ্ধার অভিযান চালালে প্রায়ই তাদের জাহাজ কয়েক সপ্তাহের জন্য জব্দ করে রোম।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনিয়মিত উপায়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেবল চলতি বছরই প্রায় দুই হাজার অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। অর্থাৎ, সমুদ্রপথটিতে গড়ে প্রতি ১১ জন অভিবাসীর মধ্যে একজন সলিলসমাধির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি অভিবাসী দেশটিতে পৌঁছাতে পেরেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ৫০ হাজারের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবির পর সি-ওয়াচ ২৮ জনকে উদ্ধার করেছে; দুইজনের মরদেহ, শিশুসহ, উদ্ধার হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন নিখোঁজ। অরোরা লাম্পেদুসায় নিরাপদে পৌঁছেছে।
infomigrants.


