তুরিনের একটি মিনিমার্কেটে ১৩ বছরের কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি দোকানকর্মীকে বিচারক জামিন দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ পুনর্নিরীক্ষণ আদালতে আপিল করেছে; একই সঙ্গে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইতালির সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে চরম বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুরিনে (Torino) ১৩ বছরের এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি দোকানকর্মীকে দেওয়া বিতর্কিত জামিন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে দেশটির সরকারি প্রসিকিউশন। প্রাথমিক তদন্তকারী বিচারক (GIP) আসামির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুমোদন না করে কেবল থানায় নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার শর্তে (obbligo di firma) মুক্তি দেওয়ায়, তুরিন প্রসিকিউটর কার্যালয় এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনাল অফ রিভিউ বা রিভিউ আদালতে (Tribunale del Riesame) এই আপিল দায়ের করে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমালোচনা, বিচার বিভাগের পাল্টা প্রতিবাদ এবং স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনার মুখে বিষয়টি এখন ইতালির জাতীয় রাজনীতির প্রধান ধর্মীয় ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল তুরিনের মাদোনা দি কাম্পানিয়া (Madonna di Campagna) এলাকার একটি স্থানীয় মিনিমার্কেটে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী কিশোরী খাবার কিনতে দোকানে প্রবেশ করলে, সেখানে কর্মরত অভিযুক্ত বাংলাদেশি তাকে বিনামূল্যে পানীয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করেন। পরবর্তীতে দোকানটির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, উক্ত ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট পূর্বে ওই ব্যক্তি একই দোকানে অন্য এক নারী ক্রেতাকেও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর দুই দিন কারাগারে থাকার পর প্রাথমিক তদন্তকারী বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ স্বীকার করলেও তার কোনো পালানোর ঝুঁকি নেই এবং সে “অনুতপ্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ” আচরণ করেছে উল্লেখ করে জামিন দেন। ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিজিআর পিএমনতে-কে (Tgr Piemonte) অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশি বলেন, “আমি মাতাল ছিলাম এবং আমার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছি, এমন ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।”

অভিযুক্তকে এভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিচার বিভাগের মধ্যে নজিরবিহীন মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি, কিন্তু বিচারালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।” একই সঙ্গে ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও (Carlo Nordio) আদালতের সার্বিক আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় তুরিন আদালতে সরকারি পরিদর্শক পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জাতীয় ম্যাজিস্ট্রেট সমিতির (ANM) সভাপতি জুসেপ্পে তাঙ্গো (Giuseppe Tango) সরকারের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বিচারকদের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপকে অত্যন্ত অনভিপ্রেত অভিহিত করে বলেন, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার নির্ধারিত আইনি পথ এড়িয়ে রাজপথে বা রাজনৈতিক মঞ্চে সমালোচনা করা অন্যায্য।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ওপর নির্যাতনের খবর ও আসামির মুক্তির খবর ছড়ানোর পর দোকানটির বন্ধ শাটারে সবুজ রঙ দিয়ে “ঘৃণ্য পেডোফাইল, একে জনগণের হাতে তুলে দাও” লিখে প্রতিবাদ জানানো হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ এলাকাটিতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করেছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের ওপর এখন রিভিউ আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে অভিযুক্ত বাংলাদেশিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হবে নাকি জামিনের বর্তমান শর্তই বহাল থাকবে।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া তরুণ গ্যাব্রিয়েল গোমেস ইতালির NTS Informatica Basket Rimini-র হয়ে হুইলচেয়ার বাস্কেটবলের জাতীয় সিরিজ বি প্রতিযোগিতায় খেলবেন, শুরু করবেন ২ নম্বর জার্সিতে।
giornalesm


