ইতালির স্কুলে বোরকা পরলে ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা: খসড়া ডিক্রিতে কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব

3 Min Read

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও অভিভাবক সভায় মুখ ঢেকে উপস্থিতি নিষিদ্ধ করতে নতুন ডিক্রির খসড়া প্রস্তুত করেছে ইতালি সরকার; অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জরিমানা গুণতে হবে মা-বাবাকে।

ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা বা মুখমণ্ডল আড়াল করে এমন যেকোনো পোশাক পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রস্তাবিত একটি নতুন স্কুল ডিক্রির খসড়ায় এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিয়ম অমান্য করে মুখ ঢেকে ক্লাসে বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ নিলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইতালির মন্ত্রী পরিষদের (Consiglio dei ministri) আসন্ন বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই খসড়াটি পেশ করার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ডিক্রির ধারা অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কিংবা জরুরি নিরাপত্তা কারণ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানায় কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষার্থী মুখ ঢেকে রাখতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ক্লাসরুমের সাধারণ পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিদ্যালয়ের যেকোনো পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক সমন্বয় সভায় (rapporti scuola famiglia) অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মুখমণ্ডল শনাক্তকরণে বাধা তৈরি করে এমন যেকোনো পোশাক বা আচ্ছাদন এই আইনের আওতায় পড়বে। বিধান লঙ্ঘনকারীদের জন্য ২০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মভঙ্গকারী শিক্ষার্থী যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে এই আর্থিক জরিমানার নোটিশ সরাসরি তার অভিভাবকের ওপর কার্যকর করা হবে।

ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে মুসলিম কমিউনিটির জন্য এই প্রস্তাব বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিশনাক্তকরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করা হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ধর্মীয় পোশাক পরিধানকারী নারীদের ওপর। বিশেষ করে যেসব অভিবাসী নারী মুখ ঢেকে সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে আনা-নেওয়া করেন কিংবা অভিভাবকদের প্রাতিষ্ঠানিক সভায় অংশ নেন, নতুন এই আইন পাস হলে তাঁদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

একই ডিক্রির খসড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সংক্রান্ত আরও কিছু পদক্ষেপের মধ্যে ক্লাসরুমে অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (scuola primaria) প্রথম শ্রেণির প্রতিটি ক্লাসে বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট উপস্থিতির সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। তবে এই শর্তটি কেবল সেই শিশুদের ওপর কার্যকর হবে, যাদের জন্ম ইতালির বাইরে এবং যারা দেশটির প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (scuola dell’infanzia) ন্যূনতম দুই বছর পড়েনি। একইভাবে নিম্ন ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ক্ষেত্রেও জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তত তিন বছর সফলভাবে উত্তীর্ণ না হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ৩০ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য রাখা হয়েছে।

ডানপন্থি সরকারের তৈরি করা এই খসড়া ডিক্রিটি কার্যকর হতে এখন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সম্মতির অপেক্ষা। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে তা ইতালির শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় প্রতীক ও পোশাকের ব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ইতালির স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ, মুখ ঢেকে এলে সর্বোচ্চ ১,০০০ ইউরো জরিমানা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হবে অভিভাবকদের।

ansa

Share This Article