জননিরাপত্তার স্বার্থে অপরাধে যুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের ওপর জোর দিয়েছেন মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি; অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যয়ের মাত্র এক শতাংশ খরচ হচ্ছে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে।
ইতালিতে অবস্থানরত অনিয়মিত এবং জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আরও ছয়টি নতুন প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা সিপিআর (Centri di Permanenza per il Rimpatrio – CPR) স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। সম্প্রতি সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গেল সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে নৌকায় করে অভিবাসী পৌঁছানোর সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র তিন হাজারে। তবে আগমন কমলেও অপরাধে জড়িত অনিয়মিত প্রবাসীদের বিতাড়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার তার অবস্থান কঠোর রাখছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে কার্যকর করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশজুড়ে এই কেন্দ্রগুলোর একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা অপরিহার্য। তিনি জানান, বর্তমানে ইতালির বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে আটক থাকা ব্যক্তিদের প্রায় শতভাগই কোনো না কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা তালিকাভুক্ত। এ প্রসঙ্গে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিমিনালের (Viminale) গত মে মাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়, এসব কেন্দ্রে আটক থাকা অভিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত, ২৫ শতাংশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শারীরিক সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে এবং ৩৩ শতাংশ অবৈধ অস্ত্র বহন বা রাখার দায়ে অভিযুক্ত।

নতুন প্রত্যাবাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওঠা সমালোচনাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন পিয়ান্তেদোসি। তিনি এসব বিরোধিতাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সাধারণ বিদেশি নাগরিকদের হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়, বরং যারা জননিরাপত্তার জন্য প্রকৃত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।
অভিবাসী ব্যবস্থাপনা ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের যে প্রশ্ন উঠেছে, তার একটি বিশদ আর্থিক চিত্রও পাওয়া গেছে বাজেট পর্যালোচনায়। ইতালির সাম্প্রতিক বাজেট অনুযায়ী, দেশে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের অভ্যর্থনা খাতে রাষ্ট্র বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে থাকে। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে চালু থাকা ১১টি সিপিআর পরিচালনায় এই বরাদ্দের মাত্র এক শতাংশের সামান্য বেশি ব্যয় হয়, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৬ মিলিয়ন ইউরো। প্রতিটি কেন্দ্রে আটক থাকা ব্যক্তির পেছনে সরকারের প্রতিদিন গড়ে খরচ হয় ৬১ দশমিক ১৭ ইউরো।
বিপরীতে, অভিবাসন বাজেটের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয় নিয়মিত অভ্যর্থনা ও একীভূতকরণ কার্যক্রমে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের জরুরি অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর পেছনে রাষ্ট্রকে দিতে হয় ৯৫০ মিলিয়ন ইউরো। আর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত অভ্যর্থনা ও সামাজিক একীভূতকরণ ব্যবস্থার (SAI) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৯৮ মিলিয়ন ইউরো। এছাড়া ২০২৪ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে আলবেনিয়ায় তৈরি হওয়া কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য পাঁচ বছরের চুক্তিতে ৬৫৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছে ইতালি সরকার। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, নতুন ছয়টি কেন্দ্র চালু হলে সামগ্রিক ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
ইতালিতে আরও ৬টি নতুন সিপিআর কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন পিয়ান্তেদোসি; ১১টি বর্তমান কেন্দ্রে বছরে ১৬ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় হলেও আলবেনিয়ার কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ৬৫৩.২ মিলিয়ন ইউরো।
today


