ইতালিতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার বলি ৭০১ শ্রমিক: জাতীয় শোক দিবসে বিশেষ প্রসিকিউশন চালুর দাবি

3 Min Read

বছরের প্রথম আট মাসেই চার লক্ষাধিক দুর্ঘটনার তথ্যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্মাণ খাতের অনিয়ম রোধে পৃথক ফৌজদারি আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় শ্রমিক নিরাপত্তা সংস্থা আনমিল।

ইতালির বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় হতাহতের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে কাজ করতে গিয়ে অন্তত ৭০১ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত ও গুরুতর আহতদের স্মরণে আয়োজিত জাতীয় দিবসে এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ সুরক্ষিত করতে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, কেবল প্রাণহানিই নয়, বরং দেশটিতে কর্মকালীন সাধারণ দুর্ঘটনা এবং পেশাগত জটিল রোগের হারও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই চার লাখেরও বেশি কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনার অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। কর্মস্থলে পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর অভাব, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং নিরাপত্তা তদারকির শিথিলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ইতালির সার্বিক শ্রমবাজারের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে নির্মাণ খাতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণ শিল্পে কোনো ধরনের আইনি চুক্তি ছাড়া অনানুষ্ঠানিক কাজ বা ‘লাভোরো নেরো’ (Lavoro Nero) এবং সুরক্ষাব্যবস্থার চরম ঘাটতি যেন নিত্যদিনের সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিহীন অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত শ্রমিকদের কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই চরম বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এমন অব্যবস্থাপনা ও চরম অবহেলার শিকার হয়ে বহু শ্রমিক অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। গত এপ্রিল মাসে সিসিলির পালেরমোতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধিকারকর্মীরা জানান, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধি না মেনে পরিচালিত একটি ক্রেনে কোনো চুক্তি বা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই কাজ করছিলেন দানিলু ও নাজাই নামের দুই নির্মাণ শ্রমিক। একপর্যায়ে ক্রেন থেকে ২৫ মিটার নিচে আছড়ে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। গণমাধ্যমে সামান্য আলোচনার পর এমন বহু মর্মান্তিক ঘটনা খুব দ্রুত আড়ালে চলে যায়।

এমন বাস্তবতায় কর্মস্থলে হতাহত ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার শ্রমিকদের জাতীয় সংগঠন ‘আনমিল’ (ANMIL) পরিস্থিতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, কর্মক্ষেত্রের অবহেলাজনিত মৃত্যুকে সাধারণ অপরাধের বাইরে এনে একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের তদন্ত নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের অধীনে একটি ‘বিশেষ বা পৃথক প্রসিকিউশন সেল’ গঠনের জোর সুপারিশ করেছে তারা।

শ্রমিক অধিকারকর্মীরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিটি শ্রমিকের প্রতি একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের জীবন রক্ষায় মালিকপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কর্মক্ষেত্রের এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব হবে না।

চলতি বছরে ইতালিতে কর্মক্ষেত্রে ৭০১ জনের মৃত্যু, দুর্ঘটনার অভিযোগ ৪ লাখের বেশি; নিরাপত্তা বিধি কার্যকর, কঠোর নজরদারি ও শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদারের দাবি তুলছে এএনএমআইএল।

Tg3

Share This Article