বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পায়নি ইতালির কোনো প্রতিষ্ঠান; তবে সেরা এক হাজারের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে দেশটির ৪২টি উচ্চশিক্ষালয়।
বিশ্বের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড নির্ধারণকারী অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ তালিকা ‘একাডেমিক র্যাঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস’ (ARWU) ২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সাংহাই র্যাঙ্কিং কনসালটেন্সি (ShanghaiRanking Consultancy) কর্তৃক গত ১৫ আগস্ট বা ‘ফেরাগোস্তো’র দিনে প্রকাশিত এই বৈশ্বিক তালিকায় ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে রোমের ‘লা সাপিয়েনজা’ (La Sapienza)। তবে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষে থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান খুব একটা সুবিধাজনক নয়।
চলতি বছরের তালিকায় দেখা গেছে, বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইতালির কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বৈশ্বিক তালিকায় ১৫৩তম স্থানে রয়েছে ‘লা সাপিয়েনজা’ ইউনিভার্সিটি অফ রোম। ইতালীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ পাডোভা (Università di Padova) এবং তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে মিলানের পলিটেকনিকো দি মিলানো (Politecnico di Milano)।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও শীর্ষ অবস্থান
এবারের র্যাঙ্কিংয়েও বরাবরের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। টানা কয়েক বছরের মতো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুট ধরে রেখেছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)। তালিকার প্রথম দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটিই আমেরিকার। ইউরোপের মধ্যে জয়জয়কার ব্রিটেনের; চতুর্থ অবস্থানে থেকে ইউরোপ মহাদেশের সেরা হয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ এবং সপ্তম স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড। মহাদেশীয় ইউরোপের (Continental Europe) মধ্যে ফ্রান্সের প্যারিস-স্যাকলে ইউনিভার্সিটি (১৩তম) এবং সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ (১৯তম) উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান ও ইতালির অবস্থান
বিশ্বের প্রায় ২,৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে সেরা ১,০০০টি প্রতিষ্ঠানের এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দেশভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান রয়েছে চীনের; দেশটির ২৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা হাজারের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর পরেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৮৭)। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকা যুক্তরাজ্যের ৫৭টি এবং জার্মানির ৫১টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ইতালির রয়েছে ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়।
ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
- মিলানো বিকোক্কা, ট্রেন্তো ও কাতোলিকা বিশ্ববিদ্যালয়: ৪০১ থেকে ৫০০-এর ব্র্যাকেটে।
- লা সাপিয়েনজা: ১৫৩তম।
- পাডোভা ও মিলানো পলিটেকনিক: ২০১ থেকে ৩০০-এর ব্র্যাকেটে।
- বোলোনিয়া, নেপলস ফেদেরিকো ২য়, পিসা এবং তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়: ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে।

মূল্যায়নের মানদণ্ড
সাংহাই র্যাঙ্কিং মূলত ছয়টি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রণয়ন করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা গবেষকদের নোবেল জয় কিংবা ‘ফিল্ডস মেডেল’ প্রাপ্তি। এছাড়াও উচ্চ উদ্ধৃতিসম্পন্ন গবেষকদের সংখ্যা (Clarivate Analytics-এর তথ্যমতে), বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’ (Nature) ও ‘সায়েন্স’ (Science)-এ প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা এবং মাথাপিছু একাডেমিক পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রবাসীদের জন্য গুরুত্ব
ইতালিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের জন্য এই র্যাঙ্কিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বতালিকায় শীর্ষ ১০০-তে না থাকলেও গবেষণা ও প্রকাশনার মানে এখনো অনেক সমৃদ্ধ। বিশেষ করে পলিটেকনিকো দি বারী (Politecnico di Bari) বা তুরিন পলিটেকনিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কারিগরি শিক্ষায় বেশ শক্তিশালী। তবে গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে হলে ইতালীয় উচ্চশিক্ষালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
পরিশেষে, এই র্যাঙ্কিং ইতালির উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য একটি মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। একদিকে যেমন দেশটির ৪২টি প্রতিষ্ঠান বিশ্বমানের স্বীকৃতি পেয়েছে, অন্যদিকে শীর্ষ একশ’র বাইরে থাকা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে পাভিয়া (Pavia), পারমা (Parma) ও মেসিনা (Messina) বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো এবারও সেরা হাজারের তালিকায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
ARWU ২০২৬ র্যাংকিংয়ে ইতালির সেরা বিশ্ববিদ্যালয় লা সাপিয়েঞ্জা বিশ্বে ১৫৩তম স্থান দখল করেছে, তবে শীর্ষ ১০০-তে কোনো ইতালীয় বিশ্ববিদ্যালয় নেই। বিশ্বসেরার তালিকায় হার্ভার্ড প্রথম, স্ট্যানফোর্ড দ্বিতীয় এবং এমআইটি তৃতীয় রয়েছে।
corriere.it


