উত্তাল ভূমধ্যসাগরে পৃথক দুটি উদ্ধার অভিযানে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার ৩৩ জন নাগরিককে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই আগমনের পর ইতালির সীমান্তবর্তী দ্বীপ লাম্পেদোসার প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে অনিরাপদ নৌযানে চড়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা ৩৩ জন অভিবাসীকে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ লাম্পেদোসায় (Lampedusa) নিয়ে আসা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিচালিত দুটি পৃথক উদ্ধার তৎপরতার মাধ্যমে তাদের সাগরে চরম বিপদাপন্ন অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার দুই দেশ ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিকতম অভিযানে একটি বেসরকারি মানবিক সংস্থার (এনজিও) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নাদির’ (Nadir) আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান একটি ছোট রবার বোট থেকে পাঁচজন অভিবাসীকে উদ্ধার করে। মাত্র সাত মিটার দৈর্ঘ্যের ওই অতি ক্ষুদ্র ও অনিরাপদ ডিঙি নৌকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছিলেন তারা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উদ্ধারকারী দলকে জানিয়েছেন, সাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুওয়ারা (Zuwarah) থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত রবার বোটে করে যাত্রা শুরু করেছিলেন। উত্তাল সাগরে তাদের নৌযানটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার পর এনজিও জাহাজটি তাদের তুলে নেয় এবং পরবর্তীতে লাম্পেদোসা বন্দরে নামিয়ে দেয়।
এর আগে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বীপে পৌঁছায় অভিবাসীদের আরেকটি অপেক্ষাকৃত বড় দল। ওই অভিযানে ইতালির অর্থনৈতিক অপরাধ দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক পুলিশ বাহিনী গার্দিয়া দি ফিনানৎসার (Guardia di Finanza) টহল জাহাজ ‘ভি-৮৩৫’ (V835) মোট ২৮ জন অভিবাসীকে সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারপ্রাপ্তদের দলটিতে পুরুষদের পাশাপাশি পাঁচজন নারী এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে। অভিবাসীরা জানিয়েছেন, তারা সবাই ইরিত্রিয়া থেকে এসেছেন এবং উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে লিবিয়ার অপর উপকূলীয় অঞ্চল সাবরাথা (Sabratha) থেকে নৌকায় উঠেছিলেন।

সাগরে জীবন বাঁচিয়ে দ্বীপে নিয়ে আসার পর উদ্ধার হওয়া এই ৩৩ জন অভিবাসীকে নিয়মতান্ত্রিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে স্থানীয় অভ্যর্থনা শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, পরপর দুটি দলের আগমনের পর লাম্পেদোসার কন্ত্রাদা ইমব্রিয়াকোলা (Contrada Imbriacola) অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে (হটস্পট) বর্তমানে মোট ১৪০ জন আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, দ্বীপে পৌঁছানো ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক আইনি নথিভুক্তির কার্যক্রম সেখানে পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে লিবিয়ার জুওয়ারা ও সাবরাথা উপকূল অনিয়মিত পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সেখান থেকেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌযানে করে অভিবাসীরা ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে ইতালির এই প্রত্যন্ত দ্বীপে এসে পৌঁছান। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট দ্বীপের নিরাপত্তা ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ল্যাম্পেদুসায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা উদ্ধার অভিযানে লিবিয়া থেকে আসা ৩৩ অভিবাসী পৌঁছেছেন; দ্বীপের ইমব্রিয়াকোলা হটস্পটে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।
agrigentonotizie


