মায়ের হাত ধরে হাঁটার সময় শপিংমলের সামনে একটি পণ্যবাহী ভ্যান চাপা দিলে প্রাণ হারায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিশু; চালকের অসতর্কতা ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আইনি তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় বোলজানো (Bolzano) শহরের কেন্দ্রস্থলে পণ্যবাহী একটি ডেলিভারি ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মায়ের সঙ্গে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো শহরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৮ মিনিট থেকে ১০টা ২০ মিনিটের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বোলজানো কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের ঠিক বিপরীতে এবং সদ্য নির্মিত ভালথারপার্ক (WaltherPark) শপিং কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বার সংলগ্ন ভিয়া গারিবালদি (Via Garibaldi) সড়কে মায়ের পাশে হাঁটছিল শিশুটি। ঠিক সেই মুহূর্তে শপিংমলে পণ্য খালাস করতে আসা একটি বাণিজ্যিক ডেলিভারি ভ্যান মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ভ্যানচালক গাড়িটি ঘোরানোর সময় ফুটপাতের পাশে থাকা চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে দেখতে পাননি। ফলে গাড়িটির গতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটি সামনের চাকার নিচে পড়ে পিষ্ট হয়।

দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় নিমিষেই ঘটনাস্থলে চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চোখের সামনে সন্তানকে গাড়ির নিচে পিষ্ট হতে দেখে মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে ট্রেনের যাত্রী ও আশপাশের পথচারীরা ছুটে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দিলে অ্যাম্বুলেন্স, দমকল বাহিনী (Vigili del Fuoco) এবং স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দিয়ে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে অতি-সংকটাপন্ন অবস্থায় অর্থাৎ ‘কোড রেড’ (Codice Rosso) জারি করে শিশুটিকে বোলজানোর প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র সান মাউরিৎসিও হাসপাতালে (Ospedale San Maurizio) নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে নিবিড় চিকিৎসা শুরু করলেও অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও গুরুতর ক্ষতের কারণে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই বোলজানোর স্থানীয় পৌর পুলিশ (Polizia Locale) দুর্ঘটনাস্থল কর্ডন করে এবং সড়ক পরিমাপসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে। ভ্যানচালক কেন শিশুটিকে দেখতে পাননি এবং মালামাল খালাসের নির্ধারিত স্থান বা নিয়মে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটি চালকের বিপরীত পাশের দরজার আড়ালে অর্থাৎ দৃষ্টিসীমার বাইরে (ব্লাইন্ড স্পট) থাকায় হয়তো চালকের চোখে পড়েনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত প্রবাসী পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও বোলজানোর বাসিন্দারা।
বোলজানোতে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ফুর্তি পার্কের সামনে ফার্গনের ধাক্কায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচ বছরের শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়; পুলিশ দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে।
tgcom24.mediaset


