ইতালিতে ৫০০ ইউরোর জন্য বাংলাদেশি কর্মী নাহিদ হত্যায় যুবকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

3 Min Read

আরদেয়ার একটি ফিলিং স্টেশনে ডাকাতির চেষ্টাকালে প্রবাসী নাহিদের বুকে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল ১৮ বছর বয়সী তরুণ মার্কো আদামো; সিসিটিভি ফুটেজ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে এই সাজা দেন আদালত।

ইতালির রাজধানী রোম সংলগ্ন আরদেয়া শহরে মাত্র ৫০০ ইউরো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফিলিং স্টেশন কর্মী মো. নাহিদ মিয়াকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মার্কো আদামো নামের এক তরুণকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সিসিটিভি ক্যামেরার অকাট্য ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী আসামির স্পষ্ট স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত নাহিদ মিয়ার বয়স ছিল ৩৬ বছর এবং তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আরদেয়ার ‘তর সান লোরেনসো’ (Tor San Lorenzo) এলাকায় অবস্থিত একটি পেট্রল পাম্পে প্রতিদিনের মতো নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন নাহিদ। ঠিক সেই সময় দিনের উপার্জিত ক্যাশ বাক্সে থাকা মাত্র ৫০০ ইউরো ছিনতাইয়ের টার্গেট নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয় ১৮ বছর বয়সী ইতালীয় তরুণ মার্কো আদামো।

হামলা চালানোর সময় আদামোর পরনে ছিল সম্পূর্ণ কালো রঙের পোশাক এবং মুখমণ্ডল পুরোপুরি ঢাকতে সে ব্যবহার করেছিল ফুল-ফেস হেলমেট। পাম্পে নেমেই সে অস্ত্রের মুখে নাহিদের কাছ থেকে ক্যাশের অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে পরিবার ও নিজের কর্মস্থলের দায়িত্ববোধ থেকে নাহিদ ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আদামো অত্যন্ত হিংস্রভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে সরাসরি নাহিদের বুকের বাঁ পাশে আঘাত করে। ধারালো ফলার গভীর ক্ষতে হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এই প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে নগদ অর্থ ছাড়াই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক আদামো। তবে ফিলিং স্টেশনের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ক্যামেরা ছাড়াও আশপাশের সড়কের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরায় অপরাধীর গতিবিধি এবং পলায়নের পথ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে রোম শহর থেকে চুরি করা হয়েছিল। আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ঘটনার পরদিনই আরদেয়ার একটি নির্জন স্থানে মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় অপরাধী, যা পরে প্রায় ভস্মীভূত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

নজরদারি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে টানা এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘাতক আদামোকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। আটকের অল্প সময়ের মধ্যেই সে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তরুণ আদামো ঠান্ডা মাথায় জানায়, ‘সে (নাহিদ) আমাকে দেখে ব্যঙ্গ করে হেসেছিল, তাই আমি তাকে ছুরিকাঘাত করেছি।’

পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আদামোকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সামান্য কিছু অর্থের জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ইতালীয় নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চরম ক্ষোভ ও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে এক বছরের মাথায় প্রবাসী নাহিদ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।


আর্দেয়ায় ৫০০ ইউরোর ডাকাতির সময় বাংলাদেশি পেট্রোলকর্মী নাহিদ মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে মার্কো আদামোকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে; ক্যামেরার ফুটেজ ও স্বীকারোক্তি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

roma.repubblica

Share This Article