ইতালিতে নিয়মিত কর দিয়েও বছরের পর বছর পেরমেসো নবায়নের অপেক্ষায় প্রবাসীরা; নির্ধারিত ৯০ দিনের নিয়ম লঙ্ঘন ও পুলিশি বৈষম্যের প্রতিবাদে অভিবাসন দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।
“আমরা নিয়মিত কাজ করি এবং কর পরিশোধ করি, তবুও কেন আমাদের অধিকার মিলবে না?”—এমন ক্ষোভ ও প্রতিবাদ নিয়ে ইতালির বোলোনিয়ার অভিবাসন দপ্তরের (উফিচো ইমিগ্রাৎসিওনে) সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী অভিবাসীরা। শহরের বোভি কাম্পেজ্জি সড়কে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের অভিবাসন কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা অভিযোগ করেন, নবায়নের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হাতে পৌঁছানোর আগেই নথিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘসূত্রতা ও মেয়াদোত্তীর্ণ নথির বিড়ম্বনা
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলেক্সান্দার নামের এক অভিবাসী নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি এক বছর তিন মাস ধরে পেরমেসো দি সোজোর্নোর (বাসস্থানের অনুমতিপত্র) নবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। তার মতো অন্তত ৪০ জনের একই ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের মৌলিক অধিকার হলো একটি বৈধ পেরমেসো থাকা; যা দিয়ে আমরা কাজ করতে পারি, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারি এবং নিজের দেশে থাকা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারি। আমরা অতিরিক্ত কিছু চাইছি না। বৈধ কাগজ না থাকলে আমরা বাসা ভাড়া নিতে পারি না, ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও করতে পারছি না।”
আইনি সময়সীমা লঙ্ঘন ও দৈনন্দিন জীবনে অচলাবস্থা
আইনি বিধিবিধানের চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন নুরেদ্দিন নামের আরেক বিক্ষোভকারী। তিনি উল্লেখ করেন, ইতালির আইন অনুযায়ী একটি পারমিট নবায়নের প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে অভিবাসীদের দেড় বছর পর্যন্ত অপেক্ষায় ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

নথি না থাকার কারণে অভিবাসীদের দৈনন্দিন জীবন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। নথিপত্রের নবায়ন রসিদ বা মূল কপি না থাকায় প্রবাসীরা ছুটিতে নিজ দেশে যাওয়ার সময় সরাসরি ফ্লাইট ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যবহার করতে পারছেন না। এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো ইতালীয় জামিনদারের (গ্যারান্টার) প্রয়োজন হচ্ছে, যা সাধারণ কর্মীদের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
পুলিশি বৈষম্যের অভিযোগ ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি
বিক্ষোভকারীরা জানান, বোলোনিয়ায় বহু অভিবাসী রয়েছেন যারা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ইতালিতে বৈধভাবে কাজ করছেন এবং রাষ্ট্রের সব ধরনের ট্যাক্স পরিশোধ করে সমাজে অবদান রাখছেন। অথচ অভিবাসন দপ্তরের কিছু পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে তারা নিয়মিত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নুরেদ্দিন বলেন, “ইতালীয় ভাষা ভালোভাবে না জানা কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু কাউকে তার কারণে বৈষম্যের শিকার করা নিশ্চিতভাবেই অপরাধ।”
এদিকে কর্মক্ষেত্রেও চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছেন প্রবাসীরা। বিশেষ করে ঠিকাদারি বা কাজের চুক্তি পরিবর্তনের (কাম্বি আপ্পালতো) সময় হালনাগাদ পেরমেসো দেখাতে না পারায় অনেক কর্মীকে কাজ থেকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে বা চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারী অভিবাসীরা।
বোলোনিয়ায় প্রবাসীদের রেসিডেন্স পারমিট নবায়নে এক বছরেরও বেশি দেরির অভিযোগ; বৈধভাবে কাজ ও কর দেওয়া মানুষগুলো কাজ, বাসা ও ভ্রমণে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন, জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এতে দৈনন্দিন জীবন অনিশ্চিত।
bologna.repubblica


