ডিজেলের ওপর সর্বোচ্চ সরকারি মূল্যসীমা নির্ধারণের দাবিতে এ১ মোটরওয়ে ও নেপলস বন্দর অবরোধ অব্যাহত; মন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির আশ্বাসেও কাটেনি অচলাবস্থা, খাদ্যপণ্যের সংকটে খালি হচ্ছে সুপারমার্কেটের তাক।
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে দক্ষিণ ইতালিজুড়ে শুরু হওয়া ট্রাকচালক ও কৃষকদের বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। পরিবহন খাতের প্রতিনিধি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক ও বন্দর অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। জ্বালানির চড়া মূল্যের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ায় দক্ষিণ ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলের সুপারমার্কেটগুলোতে পণ্য সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তাকগুলো দ্রুত খালি হতে শুরু করেছে।
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সিসিলি, কালাব্রিয়া ও কাম্পানিয়া অঞ্চল। আন্দোলনকারীরা ইতালির প্রধান অর্থনৈতিক ধমনি হিসেবে পরিচিত এ১ (A1) মোটরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার নেপলস বন্দরের (Port of Naples) প্রধান ফটক আটকে দিয়ে ভারী যানবাহন রেখে দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাসের্তাসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকার সংযোগ সড়কে পিকেটিং চলছে। পরিবহন ধর্মঘটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় অন্যান্য পরিবহন কর্মী ও কৃষকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গাড়ি নিয়ে এই অবরোধ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে আন্দোলন চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি কথা বলেন ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি। ফোনালাপে সালভিনি জানান, পরিবহন খাতের সংকট কাটাতে তিনি সরকারের কাছে বিশেষ জরুরি তহবিল বরাদ্দের আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ শিথিল করার অনুরোধ জানান তিনি। তবে কয়েক দিন ধরে রাজপথে থাকা আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারের মৌখিক আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না; সংকট নিরসনে এখন জরুরি ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিশেষ করে মলিসে (Molise) অঞ্চলের ট্রাকচালক এবং কৃষকেরা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, ডিজেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং যান চালানো এখন সম্পূর্ণ লোকসানের মুখে পড়েছে। বেঁচে থাকার তাগিদে অবিলম্বে ডিজেলের ওপর সরকারিভাবে একটি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ নির্ধারণের জোর দাবি জানান তারা। কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য উৎপাদন করলেও সমাজে তাদের কঠোর শ্রমের কোনো সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না।
আন্দোলনের মাত্রা এখন কেবল সড়ক অবরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পুলিয়া (Puglia) অঞ্চলে ট্রাকচালকদের একটি বড় প্রতিনিধি দল সরাসরি আঞ্চলিক সরকারের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। অন্যদিকে বাসিলিকাতা (Basilicata) অঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘটের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির শিকার সাধারণ নাগরিকেরাও রাস্তায় নেমে সংহতি জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারী সাধারণ ক্রেতাদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে বাজারে গিয়ে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কেনাও অসম্ভব হয়ে উঠেছে। নাগরিকরা জানান, সরকারের বৈষম্যমূলক ও নিষ্ক্রিয় নীতির কাছে তারা নিজেদের মর্যাদা হারাতে রাজি নন।
এদিকে পণ্যবাহী গাড়ি বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজারগুলো থেকে তাজা শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি খুচরা বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। ইতালিজুড়ে পরিবহন, কৃষিশ্রম এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে বহুসংখ্যক প্রবাসী কর্মী ও ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশি অভিবাসী। দীর্ঘমেয়াদি এই সরবরাহ সংকটের কারণে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি প্রবাসীদের নিয়মিত আয় ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংকট দ্রুত সমাধান না হলে এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন নেতারা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দক্ষিণ ইতালিতে ট্রাকচালক ও কৃষকদের অবরোধ অব্যাহত; সিসিলি, কালাব্রিয়া, কাম্পানিয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
Tg3


