ইতালিতে ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক: দেশজুড়ে রেল যোগাযোগে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

4 Min Read

পাবলিক ও প্রাইভেট খাতে ডাকা ধর্মঘটের প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে; চরম ভোগান্তির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন মিলানসহ বিভিন্ন শহরের নিয়মিত যাত্রী ও প্রবাসী কর্মজীবীরা।

ইতালি জুড়ে সার্বিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত নয়টা থেকে শুরু হয়ে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার রাত আটটা উনষাট মিনিট পর্যন্ত একটানা চব্বিশ ঘণ্টার একটি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতের সমন্বয়ে ডাকা এই কর্মবিরতির কারণে দেশটির দূরপাল্লার দ্রুতগতির ট্রেন থেকে শুরু করে আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মিলানসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কর্মব্যস্ততায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইতালির অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের (Ministero delle Infrastrutture e dei Trasporti) আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অন্যতম দুটি শ্রমিক সংগঠন ইউএসবি (USB) এবং ইউএসআই-সিআইটি (USI-CIT) যৌথভাবে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এই ধর্মঘটের আওতায় পড়তে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রধান প্রধান রেল পরিবহন পরিষেবা। ফলে ট্রেনিতালিয়া (Trenitalia), ইতালো (Italo) এবং লোম্বার্দিয়া অঞ্চলের ত্রেনর্দ (Trenord)-এর কর্মীরা কাজে বিরতি দিলে ট্রেন বাতিল, যাত্রাপথ পরিবর্তন কিংবা চরম শিডিউল বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারেন সাধারণ যাত্রীরা। এতে হাই-স্পিড (Alta Velocità), ইন্টারসিটি এবং সাধারণ লোকাল ট্রেনের নিয়মিত সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ধর্মঘট চলাকালে রেল সংস্থাগুলো কীভাবে তাদের সেবা পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনিতালিয়া জরুরি ন্যূনতম সেবা চালু রাখার প্রক্রিয়া বজায় রাখবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে আইনত নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু জাতীয় ও আঞ্চলিক ট্রেনের তালিকা সংস্থাটির ডিজিটাল চ্যানেল ও মোবাইল অ্যাপে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যেকোনো দূরপাল্লার যাত্রীকে স্টেশনে যাওয়ার আগেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজ নিজ ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার জোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি রেল সংস্থা ইতালো কোনো আগাম নিশ্চিত ট্রেনের তালিকা প্রকাশ করেনি। তারা যাত্রীদের নিজস্ব সহায়তা কেন্দ্র ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাত্রার ঠিক পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ট্রেনের সময়সূচির ওপর কড়া নজর রাখার তাগিদ দিয়েছে।

বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানসহ পুরো লোম্বার্দিয়া অঞ্চলে এই ধর্মঘটের বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ত্রেনর্দের লোকাল ট্রেনের ওপর নির্ভর করেন। তবে কর্মদিবসের আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে এখানে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষামূলক সময়সীমা বহাল থাকবে। আইন অনুযায়ী, সকাল ছয়টা থেকে নয়টা এবং সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত জরুরি সেবা হিসেবে ন্যূনতম ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া মালপেনসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ‘মালপেনসা এক্সপ্রেস’ ট্রেন বাতিল হলে বিকল্প সড়ক পরিবহনের প্রস্তুতি রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে মিলানো কাদোরনা (Milano Cadorna) থেকে মালপেনসা বিমানবন্দর এবং স্তাবিও (Stabio) থেকে মালপেনসার মধ্যে কোনো প্রকার মধ্যবর্তী বিরতি ছাড়াই সরাসরি বিকল্প বাস সার্ভিস পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

ইতালিতে বসবাসরত বহুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এই রেল নেটওয়ার্কের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। দেশব্যাপী ঘোষিত এই ধর্মঘটের কারণে কর্মস্থলে পৌঁছানো কিংবা জরুরি প্রয়োজনে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে শুক্রবার যাদের দূরপাল্লার যাত্রা কিংবা বিমান ধরার সূচি রয়েছে, তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ৩০ অক্টোবর রাত ৮টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ইতালিজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট; ট্রেন বাতিল, বিলম্ব ও রুট পরিবর্তনের আশঙ্কা, তবে নির্দিষ্ট সময়ে জরুরি ট্রেন চলবে।

milanotoday

Share This Article