ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চলের ১৩টি শহরে টানা ১১ দিনব্যাপী আয়োজিত হতে যাওয়া এই আসরে তুলে ধরা হবে সমাজ বিনির্মাণে নারীদের ভূমিকা, নাগরিকত্ব এবং শ্রম অধিকারের নানা দিক।
ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসী নারীদের সার্বিক অধিকার, নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অবদানকে মূল প্রতিপাদ্য করে শুরু হতে যাচ্ছে দেশটির মর্যাদাপূর্ণ পরিযায়ন উৎসবের (Festival della Migrazione) একাদশতম আসর। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ১১ দিনব্যাপী এই জাতীয় আয়োজন চলবে দেশটির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের অন্তত ১৩টি শহরে।
চলতি বছরের উৎসবের কেন্দ্রীয় স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘অভিবাসী নারী: অধিকার, নাগরিকত্ব, শ্রম ও সংস্কৃতির সংযোগে চলমান জীবন’ (Donne migranti. Vite in movimento tra diritti, cittadinanza, lavoro e culture)। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে ইতালিতে আসা নারীদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প, সমাজ বিনির্মাণে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা এবং বিশেষ করে পারিবারিক সেবামূলক কাজে (care work) তাঁদের অনস্বীকার্য অবদানকে এই আসরে গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন জীবনে বিদেশি নারীরা যেসব বৈষম্য ও কাঠামোগত বাধার মুখোমুখি হন, সে বিষয়ে নীতি-নির্ধারক ও সুশীল সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনটির মূল পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে ইতালীয় বিশপ সম্মেলনের অভিবাসন বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ‘মিগ্রান্তেস ফাউন্ডেশন’ (Fondazione Migrantes), মোদেনা শহরের সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন ‘পোর্তা আপের্তা’ (Associazione Porta Aperta) এবং মোদেনা ও রেজ্জো এমিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া উৎসবের বিভিন্ন একাডেমিক পর্ব ও গবেষণাধর্মী প্যানেল আলোচনায় অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে মিলান স্টেট ইউনিভার্সিটি, বোলোনিয়া, ফেররারা, পাদোভা, ফ্লোরেন্স এবং পেরুজিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
শুরুর দিকে এই উৎসবটি কেবল মোদেনা শহর কেন্দ্রিক থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি দেশব্যাপী বিস্তৃত প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী প্রদর্শনীর (anteprima) মধ্য দিয়ে আয়োজনের আবহ তৈরি হওয়ার পর মূল পর্বটি ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলের ছয়টি প্রধান শহরের পাশাপাশি মিলান, জেনোভা, রোভিগো, ফ্লোরেন্স, লুকা এবং পেরুজিয়া শহরে একযোগে বিভিন্ন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন, উৎসবের ইতিহাসে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে জেনোভা, পেরুজিয়া ও পার্মা শহর।
ইতালির মূলধারার সমাজে বিদেশি জনগোষ্ঠীর একীভূতকরণ ও বহুসংস্কৃতির বিকাশে এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নারী কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আইনি অধিকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে এবারের আসরটি। উৎসবের বিস্তারিত সূচি ও অধিবেশনের তথ্য এর দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে (www.festivalmigrazione.it) প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে সরাসরি টেলিফোন ও ইমেইলের মাধ্যমেও বিস্তারিত তথ্য জানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৫–১৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতালির ৬ অঞ্চলের ১৩টি শহরে বসছে ১১তম মাইগ্রেশন উৎসব; এবার অভিবাসী নারীদের অধিকার, নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থান ও সংস্কৃতি পাচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব।
integrazionemigranti.gov


