লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল থেকে ৫৭ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি এনজিওর বিমানে ১১টি পচাগলা মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে; ভূমধ্যসাগরীয় এই রুটে অভিবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি আবারও প্রকাশ্যে এল।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া উপকূলের অদূরে ভূমধ্যসাগরে ফের এক মর্মান্তিক অভিবাসন ট্র্যাজেডির চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ সকালে লিবিয়ার জুয়ারা (Zuara) শহর থেকে প্রায় ৫৭ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রের মাঝখানে ১১ জন অভিবাসীর মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ইতালীয় কোস্ট গার্ডের জাতীয় অপারেশনাল সেন্টারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই মরদেহগুলো প্রথম শনাক্ত করে সমুদ্রের ওপর নজরদারিতে থাকা একটি বেসরকারি সংস্থার (NGO) বিমান। এনজিও বিমানটি নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সমুদ্রের ওপর মানুষের নিথর দেহ ভাসতে দেখে। তৎক্ষণাৎ তারা ইতালীয় কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করে মরদেহের অবস্থান এবং বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। ইতালীয় কোস্ট গার্ড দ্রুত এই সংকেত গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট লিবীয় উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। যেহেতু ঘটনাস্থলটি লিবিয়ার ‘সার’ (SAR – Search and Rescue) জোন বা অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকার আওতাধীন, তাই আইন অনুযায়ী উদ্ধারকাজ পরিচালনার প্রাথমিক দায়িত্ব লিবীয় কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়।
উদ্ধারকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মৃতদেহগুলো অত্যন্ত পচনশীল অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিবাসীরা কয়েকদিন আগেই সমুদ্রের লোনা পানিতে প্রাণ হারিয়েছেন। মরদেহের এই অবস্থা দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারা যে নৌকাটিতে করে ইউরোপের দিকে যাচ্ছিলেন, সেটি কোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় পড়ে বা অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হওয়ার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। তবে মৃতদেহগুলোর পরিচয় বা তারা কোন দেশের নাগরিক, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

লিবিয়ার জুয়ারা উপকূলটি দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী এবং অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান বহির্গমন পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সমুদ্রের এই নির্দিষ্ট রুটটি ‘সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট’ নামে পরিচিত, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় এই রুট ব্যবহার করে ইতালির ল্যাম্পেডুসা বা অন্যান্য উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে মাঝপথেই এই ধরণের মর্মান্তিক মৃত্যু অনেকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়।
ইতালীয় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা লিবীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং উদ্ধারকাজ বা পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করছে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, অভিবাসন সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা কতটা জরুরি।
এই খবরটি ইতালিতে বসবাসরত বিদেশি কমিউনিটি এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কেননা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগরের এই রুটটি ব্যবহার করে অনেক বাংলাদেশি তরুণও ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এবং প্রায়ই তারা এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। মৃতদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা বা অন্যান্য পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। ইতালীয় প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে আর কোনো নৌকা নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
লিবিয়া উপকূল থেকে ৫৭ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রে ১১টি পচাগলা মরদেহ শনাক্ত করেছে এনজিওর বিমান; ঘটনাটি লিবিয়ার SAR এলাকায় হওয়ায় উদ্ধার সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ansa


