কালাব্রিয়া উপকূলে ২০২৬ সালের প্রথম এই ল্যান্ডিংয়ে ৩৯ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু।
ইতালির দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল কালাব্রিয়ার (Calabria) সমুদ্রসীমায় বিপদে পড়া ৩৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। জনিও সাগরে ভাসমান একটি জরাজীর্ণ নৌকা থেকে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি এবং মিশরীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ২০২৬ সালে ইতালির লোকরাইড (Locride) অঞ্চলে এটিই প্রথম কোনো অভিবাসীবাহী নৌকার আগমনের ঘটনা।
ইতালীয় কোস্টগার্ডের (Guardia Costiera) রচেল্লা জোনিকা শাখা জানিয়েছে, গত রাতে গভীর সমুদ্রে টহল দেওয়ার সময় তারা একটি সন্দেহভাজন নৌকা দেখতে পান। প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ ওই কাঠের নৌকাটি উত্তাল সমুদ্রে ভাসছিল এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটির নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অভিবাসীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে থাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নিরাপত্তার খাতিরে সবাইকে কোস্টগার্ডের বিশেষ টহল নৌকায় বা মোটোভেদেত্তায় (Motovedette) সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আজ ভোরবেলায় তাদের রচেল্লা জোনিকা (Roccella Jonica) বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের পরিচয় এবং যাত্রাপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ৩৯ জন অভিবাসীর সবাই পুরুষ এবং তাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মিনোরেন্নি (Minorenni)। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় তিন দিন আগে লিবিয়ার উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে জীবনঝুঁকি নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন। গত তিন দিন তারা সমুদ্রে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অতিবাহিত করেন।

বন্দরে পৌঁছানোর পর পরই অভিবাসীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি দক্ষ মেডিকেল টিম সেখানে উপস্থিত হয়। ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্তকরণ বা আইডেন্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বর্তমানে এই অভিবাসীদের ইতালীয় রেড ক্রস বা ক্রোস রোসা (Croce Rossa)-এর স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে তাদের বন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রাথমিক অভ্যর্থনা ও উদ্ধার কেন্দ্রে (Centro di prima accoglienza e soccorso) রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের খাদ্য, পানীয় এবং প্রয়োজনীয় গরম কাপড় সরবরাহ করা হয়েছে।
ইতালির এই অঞ্চলে অভিবাসীদের আগমন নতুন কিছু নয়, তবে বছরের শুরুতেই লিবিয়া রুট দিয়ে এমন একটি বড় দলের আগমন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নতুন করে সতর্ক করেছে। সাধারণত লিবিয়া থেকে আসার পথে অভিবাসীরা মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন এবং জরাজীর্ণ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের এখন ইতালীয় অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাদের মধ্যে যারা আশ্রয়ের যোগ্য বা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, তাদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্যাম্পে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই উদ্ধার অভিযানকে সফল হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালীন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সমুদ্রপথে এমন বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত থাকা উদ্বেগজনক। উদ্ধারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও ইতালীয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আগামী কয়েক দিনে তাদের বর্তমান অবস্থা এবং আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসীদের সুরক্ষায় এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা সদা তৎপর রয়েছে।
লিবিয়া থেকে যাত্রা করা ৩৯ অভিবাসীকে কালাব্রিয়ার উপকূলে উদ্ধার করে রোকেল্লা জোনিকায় আনা হয়েছে। এটি ২০২৬ সালে লোক্রিদে প্রথম নৌকায় অভিবাসী আগমন।
ansa


