ঐতিহাসিক ইইউ চুক্তি বার্ষিকী উদযাপনের পরপরই পদত্যাগ করার কৌশল সাজাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি; খরচ বাঁচাতে একই দিনে জাতীয় ও বড় বড় শহরের স্থানীয় সরকার ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট।
ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রকাশ্যে স্বাভাবিক মেয়াদ পূর্ণ করার কথা বলা হলেও পর্দার আড়ালে শুরু হয়ে গেছে আগাম সাধারণ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি। ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আগামী মার্চ মাসে পদত্যাগ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। রাজধানী রোমে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে শেষ করার পরপরই তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পালাৎসো কিজিতে (Palazzo Chigi) জোটের শরিক আন্তোনিও তায়ানি, মাত্তেও সালভিনি ও মাউরিৎসিও লুপির সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
ইতালির সাংবিধানিক বিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পর সর্বনিম্ন ৪৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। সেই হিসাবে নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রথম তারিখ আগামী বছরের ১৬ মে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা হলো মে মাসের বদলে জুনের শুরুতে বড় বড় শহরের পৌর নির্বাচনের সঙ্গেই জাতীয় সংসদ ভোট একসঙ্গে সম্পন্ন করা। পালাৎসো কিজির আন্ডারসেক্রেটারি জোভানবাত্তিস্তা ফাৎসোলারি এবং ব্রাদার্স অব ইতালির (FdI) কর্মসূচি প্রধান ফ্রাঞ্চেস্কো ফিলিনি জুনের এই সময়সীমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও মেলোনি চেয়েছিলেন বড় শহরগুলোর স্থানীয় সরকার ভোট পিছিয়ে জাতীয় ভোট আলাদা করতে কারণ বড় শহরগুলোতে সাধারণত বামপন্থীদের প্রভাব বেশি থাকে তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কুইরিনালে (Quirinale) খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে একই দিনে ‘ইলেকশন ডে’ করার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

এই আগাম ভোটের পটভূমি হিসেবে কাজ করছে ১৯৫৭ সালের ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘রোম চুক্তি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, যার মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইকোনমিক কমিউনিটি (সিইই) গঠিত হয়েছিল। রোমের ঐতিহাসিক কাম্পিদোলিও (Campidoglio) চত্বরে আয়োজিত বিশেষ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে মেলোনি তার মেয়াদ শেষ করতে চান। এ লক্ষ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সঙ্গে মেলোনির আলোচনা ইতিমধ্যে ইতিবাচক হয়েছে। ব্রাসেলসের পরিবর্তে রোমে সম্মেলনটি আয়োজনে বেলজিয়ামও সবুজ সংকেত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সম্মানজনক সম্মেলনের সমাপ্তিকেই পদত্যাগের উপযুক্ত মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মেলোনি।
এদিকে মিলানে লেগা দলের বিশেষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর ডানপন্থী জোট বড় বড় শহরের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। মিলান, রোম, নেপলস, তুরিন ও বলোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে জোটের ভেতরে চলছে তীব্র দরকষাকষি। মিলান শহরের জন্য মাত্তেও সালভিনির কট্টর অনুসারী সিলভিয়া সারদোনেকে প্রার্থী করার বিষয়ে মেলোনি সম্মতি জানালেও ফোর্তসা ইতালিয়া (FI) তাদের নেতা মাত্তেও পেরেগো কিংবা লিচিয়া রোনজুল্লিকে বিবেচনায় রাখছে। নেপলস শহরে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পাসকুয়ালে পেরোনে ফিলার্দিকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে দলগুলো, যদিও অনেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসিকে সেখানে চাইছেন। এছাড়া তুরিনের জন্য মাউরিৎসিও মাররোনে এবং রোমের মেয়র পদে লাৎসিও অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রোবের্তা অ্যাঞ্জেলিল্লির নাম জোরালো আলোচনায় রয়েছে।
জোটের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে আগাম নির্বাচনের কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করলেও নির্বাচনী মাঠে কোনো সময় নষ্ট করতে চাইছেন না। বিশেষ করে লেগা প্রধান মাত্তেও সালভিনি দ্রুত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ওপর জোর দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জোট বৈঠকে নগর নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সরকারের বার্ষিক বাজেট (manovra) পরিকল্পনা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, জর্জিয়া মেলোনি আগামী মার্চে ইউরোপীয় কাউন্সিলের রোম সম্মেলনের পর পদত্যাগ করে আগাম নির্বাচনের পথে যেতে পারেন; ভোট মে বা জুনে হতে পারে।
repubblica


