রেসিং ও অটোমোবাইল জগতের অমর স্রষ্টা এনজো ফেরারির ৩৮তম প্রয়াণ দিবস আজ: ইতালিজুড়ে বিনম্র শ্রদ্ধা

4 Min Read

মারানেলোর কারখানায় নীরবতা থেকে মোদেনার গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা—কিংবদন্তি এই উদ্যোক্তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তার অসামান্য অবদান ও উত্তরাধিকারকে স্মরণ করছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ভক্ত।

অটোমোবাইল শিল্পের মুকুটহীন সম্রাট এবং বিশ্বখ্যাত রেসিং কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফেরারি’র (Ferrari) প্রতিষ্ঠাতা এনজো ফেরারির (Enzo Ferrari) ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৪ আগস্ট ইতালির এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বের প্রয়াণ দিবসে দেশটির মারানেলো এবং মোদেনাসহ বিভিন্ন শহরে গভীর শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করা হচ্ছে। কেবল ইতালিতেই নয়, বরং বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ফেরারি ও ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের ভক্তরা আজ এই মহান স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

ইতালির এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলের মোদেনা (Modena) শহরে এনজো ফেরারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সময় সকালে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পরিবারের সদস্য, ফেরারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সাধারণ ভক্তরা। এছাড়া মারানেলোতে অবস্থিত ফেরারির সদর দপ্তরেও বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে তার কর্মজীবনকে তুলে ধরা হয়। অনেক জায়গায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় মানুষজন এই জাতীয় বীরের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

১৯৮৮ সালের এই দিনে ৯০ বছর বয়সে নিজ শহর মোদেনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন এনজো ফেরারি। তার চলে যাওয়ার প্রায় চার দশক হতে চললেও অটোমোবাইল শিল্পে তার রেখে যাওয়া প্রভাব আজও অম্লান। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আজ সকাল থেকেই ফেরারি ভক্তরা ফেরারির আইকনিক ‘লাল রঙের’ গাড়ি এবং এনজোর ঐতিহাসিক ছবি শেয়ার করে তাকে স্মরণ করছেন।

এনজো ফেরারির কর্মজীবন ছিল সংগ্রাম ও সাফল্যের এক বিরল মহাকাব্য। ১৮৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এনজো ছোটবেলা থেকেই গতির প্রতি টান অনুভব করতেন। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন একজন রেসিং ড্রাইভার। তবে তার আসল স্বপ্ন ছিল নিজের গাড়ি তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই ১৯৩৯ সালে তিনি নিজের প্রথম অটোমোবাইল কোম্পানি ‘আল্পা এভিও কন্সট্রুজিওনি’ (Auto Avio Costruzioni) প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ১৯৪৭ সালে তিনি প্রথম নিজের নামে ‘ফেরারি’ ব্র্যান্ডের গাড়ি রাস্তায় নামান। তার সেই অদম্য জেদ ও দূরদর্শী নেতৃত্বই ফেরারিকে আজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ করে ফর্মুলা ওয়ান (Formula 1) রেসিংয়ের ইতিহাসে ফেরারির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এনজো ফেরারির হাত ধরেই এই দলটি বিশ্বের সফলতম রেসিং টিমে পরিণত হয়। তার প্রয়াণ দিবসে রেসিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এনজো কেবল একটি গাড়ি তৈরির কোম্পানি গড়ে তোলেননি, বরং তিনি একটি সংস্কৃতি ও প্যাশন তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আজও ফর্মুলা ওয়ানের ট্র্যাকে যখন ফেরারির লাল গাড়িগুলো গতির ঝড় তোলে, তখন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার ভক্তের উন্মাদনায় এনজো ফেরারির অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।

ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসী এবং বিদেশিদের কাছেও এনজো ফেরারি এক পরম শ্রদ্ধার নাম। বিশেষ করে যান্ত্রিক শিল্পে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ইতালির এই গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হিসেবে দিনটিকে সম্মানের সাথে দেখেন। ফেরারির প্রতিটি গাড়িতে থাকা সেই বিখ্যাত ‘প্র্যান্সিং হর্স’ (Cavallino Rampante) লোগোটি আজ কেবল একটি ব্র্যান্ডের পরিচয় নয়, বরং তা এনজো ফেরারির ত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এনজোর দর্শন পৌঁছে দেওয়ার জন্য আজ বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে তার জীবনকে তুলে ধরা হচ্ছে। ৩৮ বছর আগে পার্থিব জগৎ ত্যাগ করলেও গতির রাজা এনজো ফেরারি তার অমর সৃষ্টির মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে অটোমোবাইল ও রেসিং প্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই মহান কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইতালির আকাশ-বাতাস আজ যেন ফেরারির সেই ইঞ্জিনের গর্জনেই মুখরিত।

এনজো ফেরারির ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ইতালি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে; ১৮৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি ১৯৩৯ সালে ফেরারি প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ব মোটরস্পোর্টে ঐতিহাসিক প্রভাব রেখে যান।

ansa

Share This Article