বাংলাদেশিদের জন্য নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে চায় ব্রিটেন: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহযোগিতার আশ্বাস

4 Min Read

অনিয়মিত পথে প্রবেশের ঝুঁকি কমাতে এবং ব্রিটিশ শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী রপ্তানিতে ঢাকার সাথে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।

বিপজ্জনক ও অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরুৎসাহিত করতে এবার বিকল্প ও বৈধ পথ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। দেশটিতে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে লন্ডন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

ঢাকার সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সম্প্রতি বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সাথে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ও সংস্কার আনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈধ অভিবাসনে ব্রিটিশ পরিকল্পনা

এবারের র‍্যাঙ্কিংয়েও বরাবরের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। টানা কয়েক বছরের মতো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুট ধরে রেখেছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)। তালিকার প্রথম দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটিই আমেরিকার। ইউরোপের মধ্যে জয়জয়কার ব্রিটেনের; চতুর্থ অবস্থানে থেকে ইউরোপ মহাদেশের সেরা হয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ এবং সপ্তম স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড। মহাদেশীয় ইউরোপের (Continental Europe) মধ্যে ফ্রান্সের প্যারিস-স্যাকলে ইউনিভার্সিটি (১৩তম) এবং সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ (১৯তম) উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান ও ইতালির অবস্থান

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের একটি বড় সংখ্যা লক্ষ্য করা যায়। ব্রিটিশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান বর্তমানে পঞ্চম। তবে ব্রিটেন বর্তমান বাংলাদেশকে একটি ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে। এই কারণে বাংলাদেশিদের করা অধিকাংশ আশ্রয়ের আবেদনই শেষ পর্যন্ত নাকচ হয়ে যায়।

২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্রিটেনে সামগ্রিক আবেদনের বিপরীতে গড়ে ৪০ শতাংশ আবেদন গৃহীত হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল অত্যন্ত নগণ্য—মাত্র ১৪ শতাংশ। তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত পথে ব্রিটেনে ঢোকার ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় এখন আর বাংলাদেশের নাম নেই।

বাংলাদেশের মন্ত্রীদের প্রস্তাব ও কারিগরি সহায়তা

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের মন্ত্রীরা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও নিরাপদ করার ওপর জোর দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ব্রিটিশ শ্রমবাজারের বর্তমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে আরও বাস্তবভিত্তিক এবং কারিগরি সহায়তা আশা করে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রস্তাব করেন যে, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সাথে ব্রিটিশ পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সরাসরি সমন্বয় ও সহযোগিতা কর্মসূচি গড়ে তোলা উচিত। তার মতে, বাংলাদেশি কর্মীরা যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণের সনদ অর্জন করতে পারে, তবে তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হবে এবং অনিয়মিত পথ পরিহার করে নিয়মিত অভিবাসনে উৎসাহিত হবে। এতে অভিবাসীদের শোষণ ও মানবপাচারের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শোষণ ও পাচার রোধে গুরুত্ব

বৈঠকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা শোষণ এবং মানবপাচারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। ব্রিটিশ সরকার চায় অভিবাসন প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হোক যেখানে কোনো কর্মী শোষণের শিকার হবেন না। নিয়ম মেনে এবং দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা হলে উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং অনিয়মিত অভিবাসনের সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ সহযোগিতা নিশ্চিত হলে, বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির জন্য যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার একটি বড় গন্তব্য হিসেবে উন্মোচিত হতে পারে। এটি যেমন দেশের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াবে, তেমনি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করবে।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ আরও বাড়াতে চায়, অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে দক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সনদের মাধ্যমে নিরাপদ নিয়মিত পথ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করেছে।

infomigrants.

Share This Article